‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে ইরান। যার জেরে বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় নাবিকরা। সূত্রের খবর, হরমুজের (Hormuz Strait) কাছে আটকে পড়েছেন প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক। থমকে রয়েছে ৩৭টি ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ। ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত সাহায্য করতে ইতিমধ্যেই জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন সমুদ্রে আটকে রয়েছে ওই জাহাজগুলি। সেগুলিতে রয়েছেন হাজার হাজার ভারতীয় নাবিক এবং নৌকর্মী। জাহাজগুলি উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল, লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোপণ্য আমদানি করতে গিয়েছিল। যুদ্ধ আবহে ইরান হরমুজ বন্ধ করতেই সেগুলি আটকে পড়ে। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইতিমধ্যেই দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারতকে বিরাট ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীর ব্যস্ততম জলপথ হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান। সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকলে পোট্রোপণ্যের জোগান আটকাবে।
এখানেই শেষ নয়, এই পথেই সার-সহ বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি ভারত। সেই সাপ্লাই চেন ব্যাহত হলে ভারতের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে ভারতের। এক্ষেত্রে অন্য দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হলে আমেরিকার উপরই নির্ভরশীল হয়ে উঠবে নয়া দিল্লি। সেক্ষেত্রে আমেরিকার থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়তে পারে দিল্লির। যা মোটেই সুবিধাজনক হবে না ভারতের জন্য।
