একই দিনে নাগা সম্প্রদায়ের পাঁচজনের রক্ত ঝরল মণিপুরের মাটিতে। বৃহস্পতিবার কাংপোকপি জেলায় ঘটেছে এই ভয়ংকর ঘটনা। দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে পড়ে গুলি চালাতে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অভিযোগের আঙুল কুকিদের দিকে। তবে মণিপুর পুলিশ এখনও অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানায়নি। এমন হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন মণিপুরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সাল থেকে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। হিংসার জেরে এই এলাকায় কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দফায় দফায় হামলা হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর উপরেও। গত মাসে বিদ্রোহীদের হামলায় অসম রাইফেলসের দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। কুকি-মেতেই সংঘর্ষে দফায় দফায় আগুন জ্বলেছে মণিপুরের একের পর এক জেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে কাংপোকপি, সেনাপতি জেলা অন্যতম। এই পরিস্থিতিতে শান্তি ফেরাতে সরকার ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে কুকি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। দাবি, এদের সমর্থন দিচ্ছে ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী প্রায় দু'ডজন বিদ্রোহী সংগঠন।
দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে পড়ে গুলি চালাতে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অভিযোগের আঙুল কুকিদের দিকে।
মণিপুর সরকারের এক বিবৃতিতে আজই জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী-আমলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নির্ধারিত শিবিরের বাইরে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত কোনো সংগঠনের সদস্যকেই অস্ত্র-সহ ঘোরাফেরা করতে দেখলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেই সঙ্গেই বলা হয়েছে, নিরপরাধ সাধারণ নাগরিককে নির্মমভাবে গুলি করে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সরকার তার কড়া নিন্দা করছে।
কয়েকদিন আগেই মণিপুর অশান্ত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন এক সিআরপিএফ জওয়ান। একের পর এক বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। এবার বৃহস্পতিবার দুষ্কৃতীদের হামলায় ফের রক্তাক্ত হল মণিপুর।
