ইরান যুদ্ধের আবহে দেশজুড়ে গ্যাসের সংকট। সিলিন্ডার বুক করেও মিলছে না গ্যাস, অভিযোগ আমজনতার। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আমজনতার একাংশকে পাশে পেল কেন্দ্র। দেশজুড়ে অন্তত ৬ হাজার গ্রাহক নিজেদের এলপিজি সংযোগ ছেড়ে দিয়েছেন, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র। তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে কেন্দ্রের আবেদন, আরও বেশি সংখ্যক গ্রাহক যেন এলপিজি সংযোগ ছেড়ে দেন।
একমাসব্যাপী যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। তার ফলে টান পড়েছে ভারতের তেল এবং গ্যাস আমদানিতে। পরবর্তীকালে আদৌ গ্যাস পাওয়া যাবে কিনা, সেই আশঙ্কায় দেশজুড়ে শুরু হয় প্যানিক বুকিং। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার বুক করার সময়সীমা বেঁধে দেয় কেন্দ্র। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, যাঁদের ডবল সিলিন্ডার রয়েছে তাঁরা ৩৫ দিনের আগে গ্যাস বুক করতে পারবেন না। একটি সিলিন্ডার থাকলে সেই সময়সীমা ২৫ দিন। উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের উপর আরও কড়াকড়ি হয়। একটি সিলিন্ডার বুক করার ৪৫ দিনের মাথায় পরেরটি বুক করতে পারবেন, এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হয়।
এখানেই শেষ নয়, গ্যাস গ্রাহকদের জন্য আরও নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। বলা হয়, যেসব এলপিজি গ্রাহকদের কাছে ইতিমধ্যেই পাইপ লাইনে গ্যাসের সংযোগ রয়েছে, তাঁদের এলপিজি কানেকশন ছেড়ে দিতে হবে। নতুন করে এলপিজি রিফিলের আবেদন করতে পারবেন না গ্রাহকরা। যাঁদের পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ রয়েছে তাঁরা যদি এলপিজি ছেড়ে না দেন তাহলে আগামী তিন মাসে মধ্যে কানেকশন কেটে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা মেনেই এলপিজি সংযোগ ছাড়তে শুরু করেছেন গ্রাহকরা। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার গ্রাহক এলপিজি সংযোগ ছেড়ে দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে নীরজ লেখেন, 'যাঁরা এলপিজি সংযোগ ছেড়েছেন তাঁদের অজস্র ধন্যবাদ। দেশের সকল নাগরিকের কাছে আবেদন, যাঁদের পাইপলাইনে গ্যাস রয়েছে তাঁর এলপিজি ছেড়ে দিন। তাহলে বাকি এলপিজি গ্রাহকদেরও সুবিধা হবে।' সেই ডাকে কি সাড়া দেবেন দেশবাসী?
