ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের সংকটে ভুগছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ। ভারতের প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কাও এর ব্যতিক্রম নয়। বিপদের দিনে এবার বন্ধুর সহায় হল ভারত। গুরুতর পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৮০০০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল দিল নয়াদিল্লি। রবিবারই এই পেট্রোল-ডিজেল পৌঁছে গিয়েছে দেশটিকে। বিপদের দিনে ভারতের এই সাহায্য পেয়ে মোদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে দেশের শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই।
জানা যাচ্ছে, গত ২৮ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনালাপেই শ্রীলঙ্কার জ্বালানি সংকট মেটানোর জন্য ভারতের সাহায্য চান। এরপর কলম্বোয় ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এই জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। সেইমতো শনিবার ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও ১৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল জাহাজে করে পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কাকে। রবিবার এই জ্বালানি তেল পৌঁছে গিয়েছে কলম্বো বন্দরে। ভারতের তরফে এই সাহায্য পেয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার ও বিরোধী দুই পক্ষই।
গত ২৮ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনালাপেই শ্রীলঙ্কার জ্বালানি সংকট মেটানোর জন্য ভারতের সাহায্য চান।
শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলনেতা সজিত প্রেমাদাসা ভারতকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "জরুরি পরিস্থিতিতে জ্বালানি সহায়তার জন্য আমরা ভারতকে ধন্যবাদ জানাই। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে কোনও বন্ধুত্বের আসল পরীক্ষা হয় সংকটের সময়ে, স্বস্তির সময়ে নয়। যারা দেশের কঠিন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেন তাদের ভুলে না যাই।"
উল্লেখ্য, শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, জ্বালানি সংকটে সম্প্রতি বাংলাদেশের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। গত শুক্রবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৫০০০ লিটার ডিজেল রপ্তানি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সংকটের বাজারে ভারত তার প্রতিবেশীকে মোট ১৫০০০ মেট্রিক টন ডিজেল পাঠিয়েছে। এখানেই শেষ নয় জানা যাচ্ছে, আগামী ২৮ মার্চ ৬০০০ টন অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর জন্য পাম্পিং প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ভারতের লক্ষ্য আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহ করা। এই জ্বালানি তেল যাবে অসমের নুমালিগড় তেল সংশোধনাগার থেকে। পাইপলাইনের মাধ্যমে যাবে এই ডিজেল।
