জমি অধিগ্রহণের মতো নানা বিষয়ে অসহযোগিতা করত বাংলার পূর্বতন তৃণমূল সরকার। এবার 'ডবল ইঞ্জিন' রাজ্যে থমকে যাওয়া ১৭টি প্রকল্পকে পুনরায় হাতে তুলে নিল প্রশাসন। রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলেন, চারটি বিষয়ে। সেগুলি হল-
(ক) পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ব্যর্ত রেল প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা— যেগুলি গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনও এক সময়ে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এবং প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বছর, স্থগিতকরণের বছর, মূল অনুমোদিত ব্যয় ও বর্তমান আনুমানিক ব্যয়ের বিবরণ। (খ) প্রতিটি প্রকল্প স্থগিত রাখার সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ— যার মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা বা রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত কি না। (গ) প্রকল্পগুলি স্থগিত থাকার ফলে সৃষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি। (ঘ) প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা— অর্থাৎ কোনও প্রকল্প কি পুনরায় চালু বা শুরু করা হয়েছে, অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, 'পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি প্রকল্প আলাদা ভাবে অথবা ইতিমধ্যেই চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে, জমি অধিগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বতন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে সেগুলোর অনেকই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও, জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নিম্নলিখিত প্রকল্পগুলো পুনরায় হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।' উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭টি প্রকল্পের কথাও। সেগুলি হল- ১. প্রান্তিক-সিউড়ি (৩৪ কিমি) নতুন লাইন
২. বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা (২০ কিমি) নতুন লাইন
৩. বনগাঁ-চাঁদবাজার (১২ কিমি) নতুন লাইন
৪. চাঁদবাজার-বাগদা (১৪ কিমি) নতুন লাইন
৫. রানাঘাট (আড়ংঘাটা)-দত্তফুলিয়া (৮ কিমি) নতুন লাইন
৬. কাঁথি-এগ্রা (২৬ কিমি) নতুন লাইন
৭. নন্দকুমার-বলাইপান্ডা (২৮ কিমি) নতুন লাইন
৮. নন্দীগ্রাম-কান্দিয়ামারি (নয়াচর) (৭ কিমি) নতুন লাইন
৯. বওয়াইচণ্ডী-আরামবাগ (৩১ কিমি) নতুন লাইন
১০. বওয়াইচণ্ডী-খানা (২৪ কিমি) নতুন লাইন
১১. বাকুরা (কলাবতী)-পুরিলিয়া হয়ে হুরা (৬৫ কিমি) নতুন লাইন
১২. রায়গঞ্জ-ইটাহার (২২ কিমি) নতুন লাইন
১৩. গাজোল-ইটাহার (২৭ কিমি) নতুন লাইন
১৪. ইটাহার-বুনিয়াদপুর (২৭ কিমি) নতুন লাইন
15. চালসা-নকশাল (২০ কিমি) নতুন লাইন
16. রাজাভাতখাওয়া-জয়ন্তিয়া (১৫ কিমি) নতুন লাইন
17. রায়গঞ্জ-ডালখোলা (৪৩ কিমি) নতুন লাইন
রাজ্যে থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলো যে গতি পেতে চলেছে সেকথা অবশ্যই আগেই জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী। রেল ওভারব্রিজ, সেতু, স্টেশনের পরিকাঠামো সংস্কার থেকে শহর, শহরতলির মেট্রো প্রকল্পগুলো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর তারপরই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানান, আগামিদিনে রাজ্যে ১ লক্ষ কোটির রেলপ্রকল্পের কাজ হবে। রাজ্যের প্রত্যেক জেলা জুড়বে রেল মানচিত্রে।
এদিকে সেই সময়ই জানা গিয়েছিল, রেলের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিভিন্ন কাজের অনুমোদন চেয়ে প্রায়ই চিঠি আসত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও ছাড়পত্র মিলত না। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকার। আর তাতেই এবার বাংলায় থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে। শুক্রবারও রাহুল সিনহার প্রশ্নের জবাবে ফের সেকথা জানালেন রেলমন্ত্রী।
