১৯৪৭ সাল। অপরিকল্পিত রেখা আলাদা করে ভারতকে। এপার ভারত। ওপার পাকিস্তান। উপমহাদেশীয় ইতিহাসে মর্মান্তিক দেশভাগ। রাতারাতি ঘর, বাড়ি, প্রিয়জন ছেড়ে উদ্বাস্তু হন বহু। হাহাকার, আর্তনাদ, মিশে গিয়েছিল বাতাসে। দেশভাগে ভুক্তভোগীদের সম্মান জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বেছে নেওয়া হল কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনকে। তাঁদের লড়াইকে সম্মান জানিয়ে তৈরি করা হবে স্মৃতিস্থল। নভেম্বরের মধ্যে সেই কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্রসিং শেখাওয়াত।
দেশভাগের বেদনাদায়ক অধ্যায়ে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই 'ক্ষতচিহ্ন' আজও বয়ে চলেছেন তাঁদের উত্তরাধিকারীরা। তা প্রলেপ দেওয়াও যাবে না! তবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সম্মান জানতে তৈরি করা হচ্ছে স্মৃতিসৌধ। চলতি বছরে 'হর ঘর তেরঙ্গা' কর্মসূচির অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে শেখায়াত বলেন, "শিয়ালদহ রেল স্টেশনে স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্মান জানানো হবে।"
বেশ কিছু বছর ধরে স্বাধীনতার আগের দিন ১৪ আগস্ট দেশভাগের 'বিভীষিকা স্মরণ দিবস' হিসাবে পালন করা হচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের সদস্য সচিব সচ্চিদান্দ যোশী জানিয়েছেন, এই বছর স্মরণানুষ্ঠানে পাঞ্জাবের অমৃতসর ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বড় অনুষ্ঠান করা হবে। তিনি বলেন, "স্মৃতিসৌধটি শিয়ালদহ স্টেশনে তৈরি হচ্ছে। দেশভাগে কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের (সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তান) মানুষ যাঁরা ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁদের সম্মান জানানো হবে। স্মৃতিসৌধটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েকর তত্বাবধানে তৈরি হবে।" নির্মাণ কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৮০ বছরে ৯ আগস্ট ছথেকে ১৪ আগস্ট দেশজুড়ে হর ঘর তেরঙ্গা যাত্রা শুরু হবে। সেই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।সেই অনুষ্ঠানেই এই স্মৃতি সৌধ তৈরির কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
