জামিন পেয়েছেন সোনম রঘুবংশী। আর সেই জামিনের নেপথ্যে রয়েছে একটি টাইপো! মধুচন্দ্রিমায় নিয়ে গিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে জামিন দিয়েছে শিলংয়ের একটি আদালত। জানা যাচ্ছে, স্রেফ টাইপিংয়ের ভুলেই এমন নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঠিক কী হয়েছিল? জানা যাচ্ছে, সোনমের গ্রেপ্তারির যে মেমো জমা দেওয়া হয়েছিল তাতে উল্লিখিত ধারা ছিল ন্যায় সংহিতার ৪০৩(১)। কিন্তু আসলে ওই ধারার কোনও অস্তিত্বই নেই। তা আসলে হওয়ার কথা ১০৩(১)। অর্থাৎ টাইপিংয়ের ভুল। পুলিশ অবশ্য আদালতকে জানায়, এটা একেবারেই 'করণিক ত্রুটি'। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ‘গ্রেপ্তারের কার্যকর ভিত্তি’ জানানো হয়নি। ফলে এই গ্রেপ্তারি আইনগতভাবে গ্রহণীয় নয়।
আদালত আরেকটি ত্রুটির দিকেও ইঙ্গিত করেছে। জানানো হয়েছে, সোনম গ্রেপ্তার হওয়ার পর যখন তাঁকে প্রথম গাজিপুরের আদালতে হাজির করা হয়, তখন তাকে কোনও আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্তত এমন কোনও তথ্য নথিপত্রে নেই। এর ফলে, গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ায় থাকা ত্রুটিগুলিকে সে প্রাথমিক পর্যায়েই চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, শর্তসাপেক্ষ জামিন দেওয়া হয়েছে সোনমকে। জানানো হয়েছে, সে যেন শিলংয়ের বাইরে না যায়। এদিকে তাঁর ভাই গোবিন্দ রঘুবংশী জানিয়েছেন, এখনও আদালতের নির্দেশলিপি তাঁরা পাননি। ফলে সোনম কবে জেলের বাইরে আসবেন তা পরিষ্কার নয়। তাঁর কথায়, ''আমি শুনেছি সোনমকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে কবে ছাড়া পাবে জানি না। কিন্তু আমার মা-বাবা যদি ওকে বাড়িতে থাকার অনুমতিও দেয়, আমি আর বাড়িতে থাকব না।''
গত ২৩ মে মেঘালয় থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন রাজা এবং সোনম। নিখোঁজ হওয়ার দশ দিন পরে ২ জুন চেরাপুঞ্জির জলপ্রপাতের ধার থেকে রাজার দেহ উদ্ধার করা হয়। এরও বেশ কয়েকদিন পর উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোনমকে। মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছিল, সোনম আত্মসমর্পণ করেছেন। রাজার খুনে তিনিই মূল অভিযুক্ত। এ ছাড়া, তাঁর প্রেমিক রাজ এবং কয়েক জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রেমিক রাজের সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পনা করে স্বামী রাজাকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
