আর্থিক তছরুপের মামলায় ১৮ মাস জেল কাটিয়েছেন। গত মাসে ফের গ্রেপ্তার হন আম আদমি পার্টির নেতা এবং দিল্লির প্রাক্তন জলসম্পদ মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন (Satyendar Jain)। জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১.৫২ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। বৃহস্পতিবার ওই মামলায় দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালতে জামিন পেলেন সত্যেন্দ্র জৈন। জেলা দায়রা আদালতের বিশেষ বিচারক দিগবিনয় সিং এই রায় দেন। বলা বাহুল্য, এর ফলে স্বস্তি পেলেন আপ নেতা।
গত ১৮ আগস্ট দিল্লি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা গ্রেপ্তার করে সত্যেন্দ্রকে। অভিযোগ, দিল্লি জল বোর্ডের (ডিজেবি) নর্দমা শোধন কেন্দ্রগুলোর (সিওয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দরপত্রের শর্তাবলীতে কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ভিজিল্যান্স ডিরেক্টরেট একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। তদন্তের পর এই ঘটনায় মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাক্তন আপ মন্ত্রী ছাড়াও দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও ও আইএএস (IAS) আধিকারিক উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, ‘এএন এন্টারপ্রাইজেস’-এর মালিক নগেন্দ্র যাদব, ‘ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মালিক রাজা কুমার কুররা এবং ‘সৃজনহার’-এর মালিক পঙ্কজ ভার্মা।
দেশের মূলস্রোতের রাজনীতি থেকে দুর্নীতিকে উৎখাত করার ডাক দিয়েই শুরু হয়েছিল আম আদমি পার্টি ওরফে আপের পথ চলা। দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসাবে ঝাড়ুকে বেছে নিয়ে কেজরিওয়ালরা যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে বিদায় করবেন, এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই জনগণের মন জয় করে নিয়েছিল নবীন এই দলটি। সেই দলের একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেল খেটেছেন আপ নেতারা। এর আগে মণীশ সিসোদিয়া ও সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে মন্ত্রীপদে থাকাকালীন ২ হাজার কোটির দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছিল। এবার জল বোর্ডের টেন্ডার সংক্রান্ত মামলা চলছে দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। আপাতত জামিনে স্বস্তি পেলেন।
