আহমেদাবাদের 'দাদাগিরি' নয়, অলিম্পিক হবে অন্য রাজ্যে? মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় জোর চর্চা
Anwesha Adhikary
২০৩৬ সালে অলিম্পিক আয়োজনে মরিয়া ভারত। শেষ পর্যন্ত ভারতে সত্যিই অলিম্পিকের আসর বসলে তার প্রাণকেন্দ্র হতে চলেছে আহমেদাবাদ। কিন্তু গুজরাটের শহরকে চ্যালেঞ্জ করতে আসরে নামছে তামিলনাড়ু? তেমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে তামিলনাড়ুর 'সুপারস্টার' মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ের কথায়। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেছেন, গোটা রাজ্যকে এবার ঢেলে সাজানো হবে। আগামী ১০০ বছরের জন্য রাজ্যের সমস্ত প্রয়োজন পূরণ হয়ে যাবে বলেও দাবি করেছেন বিজয়।
বিজয় জানিয়েছেন, চেন্নাইয়ে বিধানসভা ভবন এবং সচিবালয় নতুন করে তৈরি করা হবে। ২০ লক্ষ স্কোয়্যার ফিট জায়গাজুড়ে অন্তত ১২০০ কোটি টাকা খরচ হবে নতুন ভবন তৈরিতে। বর্তমানে তামিলনাড়ুর সচিবালয়ের কাজ চলে দু'টি আলাদা ভবনে। এবার পুরো সচিবালয়কে এক ছাদের তলায় আনতে চলেছেন বিজয়। নতুন ভবনে উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকবে। দিব্যাঙ্গদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন বিজয়। প্রশাসনিক কাজে সুবিধার পাশাপাশি চেন্নাইকে সাজিয়ে তোলাও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য।
শুধু প্রশাসন নয়, ক্রীড়াক্ষেত্রকেও শক্তিশালী করতে চাইছেন থলপতি। জানিয়েছেন, চেন্নাইকে মোটর স্পোর্টস সিটি হিসাবে গড়ে তোলা হবে। ফর্মুলা ১ আয়োজনের উপযোগী ট্র্যাকও বানানো হবে সেখানে। তামিলনাড়ু সরকার চাইছে, ভারতে আবার ফিরে আসুক মোটর রেসিং। আগামী বছর দুয়েকের মধ্যেই সেই লক্ষ্যপূরণ হতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বিজয় ঘোষণা করেছেন চেন্নাইকে অলিম্পিক সিটি হিসাবে গড়ে তোলা হবে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো, ময়দান থেকে শুরু করে ট্রেনিং সেন্টার-সমস্তই থাকবে এই অলিম্পিক সিটিতে।
তাহলে কি আহমেদাবাদকে টপকে অলিম্পিক আয়োজনের দাবিদার হয়ে উঠবে চেন্নাই? সেই নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অতীতে ক্রীড়াক্ষেত্রে আহমেদাবাদের ‘বাড়বাড়ন্ত’ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বকাপ ফাইনাল, ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ থেকে শুরু করে টিম ইন্ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ-সবই খেলা হয়েছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। এবার কমনওয়েলথ গেমসের আসরও বসছে গুজরাটের এই শহরে। কিন্তু বারবার কেন আহমেদাবাদেই এই প্রতিযোগিতা হবে, সেই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বিজয়ের অলিম্পিক সিটি গড়ার ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।