আরও বিপাকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়র দায়ের করা মানহানি মামলায় বিপদে তৃণমূল সাংসদ। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সভা থেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে 'গুন্ডা' বলে উল্লেখ করার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে মামলা রুজু হয়। একাধিকবার আদালতের তরফে সমন পাঠানো হয়। তবে হাজিরা দেননি অভিষেক। তারপর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। মামলা গড়ায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে। পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ দেয় হাই কোর্ট। বুধবার সেই নির্দেশই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলেই খবর। তার ফলে যেকোনও মুহূর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন অভিষেক।
বিধানসভার সই জাল, ডিজে মন্তব্য মামলায় সিআইডির স্ক্যানারে অভিষেক। আবার তার উপর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি জেরার মুখোমুখি হয়েছেন। তার উপর মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের রক্ষাকবচ প্রত্যাহারে ক্রমশ বিপদ বাড়ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।
গত ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়। গেরুয়া ঝড়ে পর্যুদস্ত হয় তৃণমূল। তারপর থেকেই ঘরে-বাইরে বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কালীঘাটের বাসভবনের বৈঠকে বারবার অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন তাঁর দলেরই নেতারা। প্রকাশ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করেন তাঁরা। অভিষেকের দলীয় পদ কেড়ে নেওয়ার দাবিও ওঠে। আর এই 'বিদ্রোহে'র ফলে বর্তমানে ভেঙেচুরে খানখান একদা শাসক শিবির। এই পরিস্থিতিতে তিনটি মামলায় চাপে অভিষেক।
বিধানসভার সই জাল মামলায় একাধিকবার তলব করা হয় তাঁকে। তলব এড়ান। কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থও হন তিনি। গ্রেপ্তারি রুখতে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে তাঁকে। সে কারণে অবশেষে এই মামলায় ভবানীভবনে দু'দিন হাজিরা দিয়েছেন তিনি। ডিজে মামলাতেও তাঁকে ইতিমধ্যে তলব করেছে সিআইডি। হাজিরাও দিয়েছেন ভবানীভবনে। আবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও বর্তমানে ইডির স্ক্যানারে অভিষেক। গত সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। মাঝে আবার আমফানের ত্রাণ দুর্নীতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। এছাড়া গরুপাচার, বালিপাচার-সহ একাধিক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। তবে ভোপাল এমপি-এমএলএ আদালতের নির্দেশে যেন এক লহমায় বিপদ অনেকটাই বাড়ল অভিষেকের।
