সারাদিন অফিসের কাজ করে দেওয়া যায় একটানে, কিন্তু বাড়ি ফিরলেই অবসাদ ঘিরে ধরে। সারাদিনের ক্লান্তি যেন ধাক্কা মারে একসঙ্গে। অথচ সারাদিন কাজের মধ্যে তো বোঝা যায়নি এতটা! কেন? তবে কি এ কেবল কাজের ক্লান্তি? মানসিক অবসন্নতা নয়? এই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন মনোবিদরা। জানাচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে সারাদিন অবসাদ টের না পাওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।
বাড়ি ফিরে যখন চাপ কমে যায়, তখন শরীর বুঝতে পারে যে এখন বিশ্রামের সময়।
আসলে কাজের সময় আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক ‘স্ট্রেস মোডে’ থাকে। অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল-এর মতো হরমোন আমাদের সতর্ক, সক্রিয় ও মনোযোগী রাখে এই সময়ে। ফলে আসল ক্লান্তি অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। বাড়ি ফিরে যখন চাপ কমে যায়, তখন শরীর বুঝতে পারে যে এখন বিশ্রামের সময়। সেই মুহূর্তে দিনের জমে থাকা ক্লান্তি, মানসিক চাপ ও অবসাদ একসঙ্গে অনুভূত হয়। তাই অনেকেরই বাড়ি ফিরেই ঘুম পায়, শরীর ভেঙে যায় বা কিছুই করতে ইচ্ছে করে না।
অথচ এই অবসাদের মুখ্য কারণই কিন্তু দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করা, সারাদিন মানসিক চাপ ও দায়িত্ব সামলানো, কম শারীরিক সচলতা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, কিংবা কাজের পরও ফোন, সোশাল মিডিয়া বা অন্য মানসিক উদ্দীপনায় ব্যস্ত থাকা।
কীভাবে রেহাই পাওয়া যায় এমন অবস্থা থেকে?
১। বাড়ি ফিরে ১০–১৫ মিনিট সময় নিজের জন্য তুলে রাখুন। ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই পরের কাজটি তুলে না নিয়ে, বিশ্রাম করুন কিছুক্ষণ।
২। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস করুন। ২–৫ মিনিট ধীরে ধীরে শ্বাস নিলে শরীর ‘রিল্যাক্স মোডে’ যেতে সাহায্য পায়।
৩। হালকা হাঁটা, গান শোনা বা চা খাওয়ার মতো ছোট রুটিন মানসিক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।
৪। অফিসের পর কিছু সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন।
৫। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম অভ্যেস করুন। এতে কর্মশক্তি ও মানসিক স্থিতি বাড়ে।
৬। প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম শরীর ও মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি।
অভ্যাসের ছোট ছোট পরিবর্তনেই অবসাদ কাটবে।
অর্থাৎ বুঝতে হবে যে সারাদিন অফিসে কাজ করতে পেরেছেন মানেই যে আপনি কর্মক্ষমতায় ভরপুর ছিলেন, তা নয়। বরং কাজের চাপই আপনাকে সাময়িকভাবে সচল রেখেছিল। বরং এক ধরনের ভয়ই কাজ করেছে এর পিছনে।
যদি সহজ সমাধানেও এই ক্লান্তি কাটতে না চায়, তাহলে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ দিন। মনের রোগকেও ততখানিই গুরুত্ব দিন, যতখানি শরীরকে দিয়ে থাকেন।
