দিনকয়েক আগেই মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির শিরোপা পেয়েছেন। এবার প্রকাশ্যে এল গৌতম আদানির সম্পত্তি সংক্রান্ত চমকপ্রদ তথ্য। পরিসংখ্যান বলছে, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের লাভের অঙ্ক ৪ হাজার কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। গতবছর এপ্রিলে আদানি পাওয়ারের লাভের অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে সেই অঙ্কটা পৌঁছে গিয়েছে ৪ হাজার ২৭১ কোটিতে। অর্থাৎ একবছরে ৬৪ শতাংশ বেড়েছে আদানি পাওয়ারের লাভের অঙ্ক।
চলতি মাসের মাঝামাঝি আদানি গ্রুপের শেয়ারের মূল্য লাফিয়ে বেড়েছে। তার জেরেই এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির শিরোপা পেয়েছেন আদানি। বিখ্যাত শিল্পপতির মোট সম্পদের পরিমাণ ৯২.৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। আদানির নানা ব্যবসার মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র আদানি পাওয়ার। গত অর্থবর্ষে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে আদানির এই সংস্থাটি। সেটাও গতবছরের তুলনায় এক হাজার কোটির চেয়ে বেশি। এই বিপুল লাভের নেপথ্যে রয়েছে করের হার হ্রাস পাওয়া, সেটাও স্পষ্ট জানানো হয়েছে ধনকুবেরের সংস্থার পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মধ্যে বৃহত্তম এই আদানি পাওয়ার।
প্রসঙ্গত, বিরোধীরা বারবার মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে আদানিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে। বছরদুয়েক আগে মার্কিন শর্টসেলার সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ দাবি করেছিল, নিজেদের ফায়দার জন্য নানাভাবে ভারতের বাজার প্রভাবিত করছে আদানিরা। মোদি জমানায় আদানি গোষ্ঠীর উত্থানে বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই হু হু করতে পড়তে থাকে আদানিদের শেয়ারের দাম। আদানিদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, বাজারকে প্রভাবিত করা এবং অ্যাকাউন্টে কারচুপি করা। সেই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে সেবি।
সেবির রিপোর্টের পর থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আদানির সম্পত্তির পরিমাণ। সম্প্রতি বাংলাদেশে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে আদানি পাওয়ার। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হয় ভারতের আদানি পাওয়ারের। চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পরবর্তী ২৫ বছর ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঢাকাকে সরবরাহ করার কথা আদানির সংস্থার। আপাতত বাংলাদেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ জারি রেখেছে আদানির সংস্থা।
