প্রথমবার নেমেছেন ভোটের ময়দানে। আর অভিষেকেই ব্লকবাস্টার পারফরম্যান্স করতে চলেছেন থলপতি বিজয়! পাঁচটি বিধানসভার বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ্যে এসেছে বুধবার বিকেলে। একাধিক এক্সিট পোলেই বলা হয়েছে, প্রথমবার ভোটে লড়ে তামিলনাড়ুতে খাতা খুলতে চলেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার। একটা-দুটো নয়, অন্তত ১৮ থেকে ২০টি আসন জিততে পারে বিজয়ের দল টিভিকে। কোনও সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, প্রায় একশোর কাছাকাছি আসন পেতে পারে প্রথমবার ভোটের ময়দানে নামা দলটি। কোন ম্যাজিকে বাজিমাত করলেন বিজয়?
চলতি বছরের শুরুতে অভিনয়ের কেরিয়ারকে বিদায় জানিয়ে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নেমেছিলেন বিজয়। শুরু থেকেই বিজয়কে জোটে নেওয়ার জন্য সবপক্ষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর, ভোট ঘোষণার আগে বিজয়কে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ এবং ২৩৪টি আসনের মধ্যে ৮০টি ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ভোট ঘোষণার পরে প্রস্তাব দেওয়া হয়, অর্ধেকটা সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন বিজয়। আসনের ৫০ শতাংশও ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও কিছুতেই চিঁড়ে ভেজেনি। একটা সময়ে শোনা যাচ্ছিল, বন্ধু রাহুল গান্ধীর জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাবেন বিজয়। সেটাও হয়নি শেষ পর্যন্ত।
একলা চলো নীতিতেই শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে নেমে পড়েন বিজয়। পুদুচেরি এবং তামিলনাড়ুর সব আসনে প্রার্থী দেন। বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, দুই বিধানসভাতেই চমকে দিতে চলেছেন সুপারস্টার থলপতি। পি মার্ক, ম্যাট্রিজ, চাণক্য-প্রত্যেকটি এক্সিট পোলেই টিভিকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ টি আসন। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষায় আবার দাবি করা হয়েছে, সর্বোচ্চ ১২০টি আসন জিততে পারে টিভিকে। তাদের পূর্বাভাস, তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী হিসাবে এআইডিএমকে'কে সরিয়ে দিতে চলেছে বিজয়ের দল। তবে সেই সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। পুদুচেরিতেও অন্তত তিনটি আসন জিততে পারে টিভিকে।
কোন ম্যাজিকে প্রথমবার নেমেই বাজিমাত করলেন থলপতি? আসলে অল্প সময়ের মধ্যেই তামিলনাড়ুর আমজনতার মনে জায়গা করে নিয়েছে টিভিকে। দলের জনপ্রিয়তা বাড়ার অন্যতম কারণ বিজয়ের 'ঝুঁকেগা নেহি' মনোভাব। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, “আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে। তাই আমরা কোনওদিন কারোর সঙ্গে আপোস করব না।” বিজয়ের এই পদক্ষেপে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়তে চলেছে বলেই মত বিশ্লেষকদের। সেটারই প্রতিফলন ঘটেছে ভোটবাক্সে।
