সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় উত্তাল হয়েছে রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক শহর। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। গোটা ঘটনায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে যাতে একই পরিস্থিতি না হয়, তার ব্যবস্থায় এবার উঠে পড়ে লাগল সংস্থাটি। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এনটিএ-র সদর দপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয়-সহ বিভিন্ন জায়গায় ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পেশাদার সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে চলেছে এনটিএ। এর জন্য সাড়ে সাত কোটি টাকার দরপত্র ডাকা হয়েছে। এছাড়াও প্রশ্নপত্র-সহ এনটিএ-র যাবতীয় মুদ্রণের জন্যেও দরপত্র ডাকা হয়েছে বলেই খবর।
২৫ জুলাইয়ের দরপত্র অনুযায়ী, একটি বেসরকারি সংস্থা দিল্লির মিন্টো রোডে অবস্থিত এনটিএ-র সদর দপ্তর, ওখলায় অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয় এবং অন্যান্য নির্ধারিত স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এটি কর্মী, বাইরে থাকা লোকজন, পরীক্ষার গোপনীয় উপকরণ, সার্ভার রুম, স্ট্রং রুম, গুদাম, রেকর্ড রুম এবং অন্যান্য সংবেদনশীল জায়গার সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে। প্রস্তাবিত চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। কাজ সন্তোষজনক হলে এর মেয়াদ আরও দুই দফায় এক বছর করে বাড়ানো হতে পারে। আগ্রহী সংস্থাগুলো ১৭ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের দরপত্র জমা দিতে পারবে। একই দিন পরবর্তীতে কারিগরি বিষয়ের দরপত্রগুলিও খোলা হবে।
সাধারণত যে সংস্থার দরপত্র সবচেয়ে কম হয় তাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও এনটিএ সূত্রে খবর, পরিস্থিতির বিচারে অন্য রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। দরপত্রের মূল্যের পাশাপাশি দেখা হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কারিগরি ক্ষমতা কতখানি! এছাড়াও আবেদনকারী সংস্থার অভিজ্ঞতা ন্যূনতম পাঁচ বছর হতে হবে। এইসঙ্গে আর্থিক শক্তির দিকটিও যাচাই করা হবে। যেমন, বিগত তিনটি আর্থিক বছরে অন্তত ১০ কোটি টাকা গড় বার্ষিক টার্নওভার থাকতে হবে ওই সংস্থার। সব মিলিয়ে অতীত শিক্ষা নিয়ে সবদিকে খতিয়ে এগোতে চাইছে এনটিএ। সবচেয়ে বেশি করে নিরাপত্তার দিকটিতে জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।
