প্রশিক্ষণ চলাকালীন অসমে ভেঙে পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই ৩০ যুদ্ধবিমান। শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে বায়ুসেনা। দুর্ঘটনায় শহিদ হয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট জেনারেল পূর্বেশ দুর্গাকর। তাঁদের মধ্যে পূর্বেশ ছিলেন অপারেশন সিঁদুরের অন্যতম ‘যোদ্ধা’।
জানা গিয়েছে, ২৮ বছর বয়সি পূর্বেশের বাড়ি ছিল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। ১০ দিন আগেই তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন। পূর্বেশের প্রয়াণের ঘটনায় ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে পূর্বেশের বাবা রবীন্দ্র দুর্গাকর বলেন, “প্রথমে আমরা জানতাম না যে ছেলে অপারেশন সিঁদুরের সদস্য ছিল। ১৫ দিন পর আমরা সবটা জানতে পারি। সেই সময় পূর্বেশের কাছে তাঁর মোবাইল ফোনটি ছিল না। তাই আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “বায়ু সেনার যোগ দিতে পেরে আমার ছেলে অত্যন্ত গর্বিত ছিল। মাঝে মধ্যেই সে তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিত। সে তাঁর সহকর্মীদের খুব সম্মান করত।”
শুক্রবার বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে অসমের জোড়হাটে এয়ারবেস থেকে উড়েছিল ওই সুখোই ৩০ এমকেবি বিমানটি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আর ওই বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ওই দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট জেনারেল পূর্বেশ দুর্গাকর প্রয়াত হয়েছেন। বায়ুসেনা ওই দুই আধিকারিকের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুখোই ৩০ এক অত্যন্ত শক্তিশালী, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান। এর আসনসংখ্যা দুই। রাশিয়ার সুখোই এভিয়েশন কর্পোরেশন নির্মিত বিমানটি আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁতভাবে আক্রমণ করতে সক্ষম। শক্তিশালী রাডার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমযুক্ত এই যুদ্ধবিমানটি শক্তিশালী ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বহন করতে পারে। পাশাপাশি রুদ্রম-৩ এবং অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র বহনেও সক্ষম রুশ এই যুদ্ধবিমান। উড়তে পারে শব্দের গতির দ্বিগুণ বেগেও। সেই কারণে বায়ুসেনার এক অন্যতম শক্তিশালী যান হিসেবে গণ্য হয় সুখোই ৩০। তবে অতীতেও বহুবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এই বিমান। অসমেও তেমনই দুর্ঘটনা (Assam Sukhoi Crash) ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
