আম আদমি পার্টির কফিনে কার্যত পেরেক পুঁতে একযোগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ৭ সাংসদ। আপের ঘরে বিজেপি এভাবে সিঁধ কাটায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। তবে এহেন পরিস্থিতির জন্য ঘুরিয়ে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেই দুষলেন 'গুরু' আন্না হাজারে। জানালেন, সঠিক পথে চললে এমনটা হত না। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করে সবকিছু ঠিকঠাক নেই।
আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্না হাজারে বলেন, ''গণতন্ত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। চাড্ডা ও অন্যান্যরা নিশ্চয়ই কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। যার জেরেই তাঁরা আম আদমি ছেড়েছেন।" একইসঙ্গে বলেন, "এটি আপের নেতৃত্বের এক বিরাট গলদ। এই দল যদি সঠিক পথে থাকত, তাহলে এই সাংসদরা দল ছাড়তেন না। একসঙ্গেই থাকতেন।" এরপরই আন্না বলেন, "হতে পারে ওদের দলত্যাগের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রে, নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী দলে থাকা বা ছেড়ে যাওয়া প্রত্যেকের অধিকার।"
আন্না হাজারে বলেন, ''গণতন্ত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। চাড্ডা ও অন্যান্যরা নিশ্চয়ই কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। যার জেরেই তাঁরা আম আদমি ছেড়েছেন।"
দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে একদা আন্না হাজারের প্রিয় শিষ্য ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেখান থেকেই জন্ম হয় আম আদমি পার্টির। তবে আন্না হাজারের একেবারেই পছন্দ ছিল না কেজরি কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করুন। শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করেন তিনি। এবার সেই দলে ভাঙন ধরতেই শিষ্যকে দুষলেন গুরু। আশ্চর্যজনকভাবে চুপ রইলেন বিজেপি প্রসঙ্গে।
উল্লেখ্য, যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে গিয়েছেন আম আদমি পার্টির আরও ছয় নেতা। রাঘব জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানিও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। যার অর্থ আপের মোট ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে সাতজনই এখন বিজেপিতে।
