সোনম ওয়াংচুকের অনশনের জেরে পতন হবে বিজেপি সরকারের! বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তরে গিয়ে হুঙ্কার দিলেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মনে করিয়ে দিলেন, ২০১১ সালে আন্না হাজারের অনশন শুরু হয়েছিল ঠিক এই জায়গা থেকেই। ২০১৪ সালে ইউপিএ সরকারের পতন হয়। তিন বছর পরে নরেন্দ্র মোদি সরকারেরও একই দশা হতে পারে বলে হুঙ্কার দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর।
যন্তর মন্তরে ১৯ দিন ধরে অনশন করছেন সোনম। বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার সোনমের সঙ্গে দেখা করলেন কেজরি। যন্তর মন্তরে দাঁড়িয়ে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, "আসলে প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন যে সোনম ওয়াংচুক বিপ্লব আনতে চলেছেন। দেশের পড়ুয়াদের জন্য তিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছেন। তাঁকে স্যালুট জানাই। সঙ্গে মনে করিয়ে দিই, ২০১১ সালে ঠিক এখানেই আন্না হাজারের অনশনে সঙ্গী হয়েছিলাম আমি। সরকারকে সতর্ক করছি, সোনমের দাবি শুনুন নয়তো তিনবছর পর কংগ্রেসের মতোই দশা হবে।" আপ সুপ্রিমো জানিয়ে দিলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দ্রুত ইস্তফা দিতে হবে। দেশের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী করা উচিত সোনমকে।
উল্লেখ্য, সোনমকে নিয়ে এদিনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি হাই কোর্ট। সমাজকর্মী রাকেশকুমার সাইনি উচ্চ আদালতে আবেদন জানান সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। তিনি জানান, সোনমের মৃত্যু হলে তা দেশ ও বিশ্বের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হবে। তাই অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সেই মামলাতেই দিল্লি হাই কোর্ট বলল,“সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা যা করণীয় সবটা করতে হবে সরকারকে।” সেক্ষেত্রে আগামী দিনে ওয়াংচুককে ইরম শর্মিলা চানুর মতো নাকে নল ঢুকিয়ে জোর করে খাবার খাওয়ানো হতে পারে কি? অনেকেই সেই সম্ভাবনা দেখছেন।
দিল্লির যন্তরমন্তরের একা কুম্ভের মতো অনশন করে চলেছেন সোনম। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশন পড়ল ১৯ দিনে। এদিন সোনমের চিকিৎসা সংক্রান্ত বুলেটিন প্রকাশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সোনমের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর ওজন কমে প্রায় ৫৭ কেজিতে নেমে এসেছে। অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমেছে প্রায় ৮.৯ কেজি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি সচেতন ও মানসিকভাবে সজাগ থাকলেও তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।
