৩৩ নয়। ষোড়শ জনগণনার জন্য তথ্য সংগ্রহ-পর্বে দিতে হবে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এই কথাই জানানো হয়েছে। প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে ধর্মীয় থেকে শুরু করে জাতিগত পরিচয় (বিশেষত, তফসিলি জাতি বা জনজাতিভুক্ত কি না), এমনকী, কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০২০-২১ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনপিআরের প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভের সময় এই সব প্রশ্ন নিয়েই আপত্তি ছিল বহু বিক্ষোভকারীর।
জনগণনার প্রশ্নাবলির তালিকায় রয়েছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট থেকে বাইক-সাইকেল সংক্রান্ত প্রশ্ন। জানতে চাওয়া হয়েছে- জ্বালানি থেকে পানীয় জলের পর্যাপ্ত সুবিধা আছে কি না, মূলত কী ধরনের খাদ্যশস্য ঘরে আনা হয়, শৌচাগার-স্নানাগার, নিষ্কাশনের সুবিধা কী বা কেমন আছে, ঘরের মেঝে কী দিয়ে তৈরি, বাড়ির নম্বর, পরিবারের বিবরণ।
এ ছাড়াও প্রশ্ন করা হচ্ছে, কোন বাড়িতে কত জন থাকেন, তাঁদের লিঙ্গ কী, তাঁরা বিবাহিত কি না ইত্যাদি। তালিকায় আরও রয়েছে মোবাইল নম্বর, আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত প্রশ্নও। এগুলি সবই জনগণনার প্রথম পর্যায়ের প্রশ্ন। দ্বিতীয় পর্যায়ে জানতে চাওয়া হবে ধর্মীয়-জাতিগত পরিচয়। কিছু কিছু বামপন্থী সংগঠনের দাবি, জনগনার নামে ব্যক্তিগত তথ্য চাইছে সরকার। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল শুরু হয়েছিল ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়। ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ। জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকছে)।
নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকায় জনগণনার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। মূলত সেই প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্যই প্রকাশিত হয়েছে নতুন বিজ্ঞপ্তি। বাড়ি-বাড়ি জনগণনার কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে ১৭-৩১ অগস্ট 'স্ব-শুমার'-এর একটি বিকল্প থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বাকি অংশে, জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় আগামী বছর শুরু হবে।
