কর্পোরেট জগৎ আর ভালো লাগছিল না। বরং খেতের বিস্তীর্ণ প্রান্তরেই খুঁজে পেয়েছিলেন আনন্দ। তাই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ার বেছে নিয়েছিলেন কৃষিকাজ। কিন্তু কে জানত সেই খেতের পাশেই মৃত্যু তার অপেক্ষায় রয়েছে? ধানখেতের পাশের আমগাছের কাছে আম পাড়তে গিয়ে বজ্রাহত হয়ে প্রাণ হারালেন বছর তেতাল্লিশের ওই যুবক। যাঁর নাম হোসোকলু রোশন বালকৃষ্ণ।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নেন আধুনিক কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি বিক্রি ও সেই সঙ্গে কৃষিকাজ করার। কাজ শুরুও করে দেন। ঘটনার দিন স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে বালকৃষ্ণ যান তাঁর খেত দেখতে। সেই সময় চোখ পড়ে কাছের আমগাছে। আম পাড়তে গেলে আচমকাই বজ্রপাত হয়। সঙ্গে সঙ্গে খেতের মধ্যে লুটিয়ে পড়ে তাঁর নিথর দেহ। বজ্রপাতে চোট পান তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিও। তবে তিনি এখন সুস্থই রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর বালকৃষ্ণের পরিবারকে মাইসুরু জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তরফে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মোট ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে তাঁর স্ত্রী-পুত্রকে। এর মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের তরফে। বাকি ১ লক্ষ টাকা মিলবে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে। কর্পোরেট জগৎ ছেড়ে কৃষিকাজ বেছে নিতে গিয়ে বালকৃষ্ণের মর্মান্তিক পরিণতির পর বজ্রপাত নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। জানানো হয়েছে, ঝড়বৃষ্টি সময় কেউ যেন খোলা মাঠ, গাছের কাছে দাঁড়িয়ে না থাকেন।
