সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দু মহিলাদের সম্মানহানি হচ্ছে। অজুহাত মোটামুটিভাবে এটাই। আর সেই বাহানার জোরেই কোনও অ-হিন্দু সম্প্রদায় গরবা নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। কার্যত এমনই ফতোয়া জারি করল ভোপালের হিন্দু উৎসব সমিতি।
[বোরখা নিষিদ্ধ করার দাবিতে এ কী করলেন এই মহিলা সাংসদ!]
এই মর্মেই মধ্যপ্রদেশের ভোপাল জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে সমিতি। তাদের দাবি, গরবা নাচের অনুষ্ঠানে একান্তই হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান। এতে অ-হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রবেশ করলে, মহিলাদের সম্মানহানির ঘটনা বেশি হচ্ছে। সমস্যা বাড়ছে। অনুষ্ঠানের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখতেই নাকি এই ফতোয়া জারি করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সমিতির সদস্যরা। কিন্তু কীভাবে আটকানো যাবে অত বড় অনুষ্ঠানে অ-হিন্দুদের প্রবেশ? প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক। তারও পথ বাতলেছেন তাঁরা।
[জাতীয় সঙ্গীতে ‘না’ শতাধিক মাদ্রাসার, কড়া পদক্ষেপ যোগী সরকারের]
তাদের বক্তব্য এবার থেকেই প্রবেশদ্বারে বসানো হোক নিরাপত্তারক্ষী, যারা অনুষ্ঠানে প্রবেশকারীর আধার কার্ড পরীক্ষা করে দেখবে। আধার কার্ড দেখে চিহ্নিত করা হবে কারা হিন্দু, আর কারা নন। হিন্দু উৎসবে অ-হিন্দুদের ছোঁয়াচ বাঁচাতে এই অদ্ভুত আবদারে কার্যত হতভম্ব জেলা প্রশাসন। তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এরকম কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
[বাবরি মসজিদের দাবি ছাড়ুন মুসলিমরা, দাবি খোদ মৌলবিরই]
সমিতির প্রধান কৈলাস বেগওয়ানি জানান, হিন্দু মহিলাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে এই ধরনের অনুষ্ঠানে, এরকম অভিযোগ তাঁরা প্রায়ই পান। এবছর থেকে তাই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিচয়পত্র হিসেবে শুধু আধার কার্ডই কেন, পালটা প্রশ্ন করা হলে তাঁর বক্তব্য, আধার কার্ড জাল করা সহজ নয়। কিন্তু অন্যান্য পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে সেই আশঙ্কা থাকছে। হিন্দু উৎসব সমিতি ভোপালে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করার দায়িত্বে থাকে। তবে ধর্মের ভিত্তিতে অনুষ্ঠান পালনের নিদান তাদের সদিচ্ছাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
The post হিন্দু না হলে ‘গরবা’য় অংশগ্রহণ নয়, ভোপালে ফতোয়া হিন্দু সংগঠনের appeared first on Sangbad Pratidin.
