সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অবৈধ ভোটার বাছতে গিয়ে গাঁ উজাড় হওয়ার জোগাড়! বিহারের ভোটের তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে অন্তত ৫৬ লক্ষ নাম। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, এই ৫৬ লক্ষ ভোটারকেই তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হিসাব বলছে, প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ২৩ হাজার জন করে ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে।
কমিশন মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী ১ অগস্ট যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, সকল যোগ্য ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাতে বাদ পড়তে চলেছে অন্তত ৫৬ লক্ষ ভোটার। এই ৫৬ লক্ষের মধ্যে ২০ লক্ষ মৃত। অথচ তাঁদের ভোটার কার্ড বাতিল হয়নি। ২৮ লক্ষ ভোটার অন্য এলাকায় চলে গিয়েছেন। সাড়ে সাত লক্ষ ভোটার একাধিক জায়গায় ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। এবং ১ লক্ষ ভোটারের কোনও খোঁজই মেলেনি। আগামী ২ দিনের মধ্যে অবস্থানের বদল না হলে এই ৪১ লক্ষ ভোটারকেই তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।
হিসাব বলছে গড়ে প্রতিটি বিধানসভায় ২৩ হাজারের কাছাকাছি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। কোথাও বেশি, কোথাও কম। কিন্তু ২৩ হাজারের এই গড় ধরলেও ভোটের ফলাফলের উপর বিরাট প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন তাঁদের অধিকাংশই প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। এদের অনেকেই হয়তো বহুদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন অথচ কমিশন যে যে নথি চেয়েছে, সেগুলি তাদের নেই। এই ভোটারদের একটা অংশ সংখ্যালঘু। চিরাচারিত বিজেপি বিরোধী। আবার একটা অংশ একেবারে প্রান্তিক। সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদেরও সরকার বিরোধী ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে একটা অংশের ভোটার সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও পেয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের নীতীশ কুমারকে সমর্থন করার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও সেই সংখ্যাটা কম। এখানে মৃত ভোটারের সংখ্যাটাও হিসাবে আনতে হবে। এতদিন প্রায় ২০ লক্ষ মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় ছিল। আগের বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে এই মৃত ভোটারদের ভোট নিয়ে যে কারচুপি হয়নি, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ২০২০ বিধানসভায় বিহারে ৪০ আসনে ভোটে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল সাড়ে ৩ হাজারের কম। ১১ আসনে ভোটে জয় পরাজয়ের ব্যবধান ছিল হাজারের নিচে। ৫ হাজারের ভোটে জয় পরাজয় ঠিক হয়েছিল পঞ্চাশের বেশি আসনে। প্রতি বিধানসভায় ২৩ হাজার ভোট বাদ গেলে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।
