৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষককে বরখাস্ত করা হচ্ছে বিহারে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহার করে সরকারি চাকরি পাওয়ার। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হওয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে রাজ্যের ভিজিল্যান্স ব্যুরোর বিস্তারিত তদন্তের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ঘোষণা করেছেন বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। তৃণমূলের আমলে প্রায় দেড় দশক জুড়েই শিক্ষক দুর্নীতির ‘কালো অধ্যায়’ দেখেছে বঙ্গবাসী। এবার বিহারেও শিক্ষা দুর্নীতির কালো ছবি ধরা পড়ল।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৩৫ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৮৩০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর পাটনা হাইকোর্ট ভিজিল্যান্স ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এর পরে, রাজ্যের সমস্ত জেলায় নিযুক্ত শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র এবং নিয়োগপত্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্ত শেষ হওয়ার পর ভিজিল্যান্স ব্যুরো শিক্ষা বিভাগে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষকদের একটি তালিকা জমা দিয়েছে। বিভাগটির মতে, তদন্তে ভুয়ো শংসাপত্র এবং জাল শিক্ষাগত নথির ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার বহু ঘটনা সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী রাজ্যের সমস্ত জেলায় ভিজিল্যান্স পুলিশ স্টেশন স্থাপনের কথাও ঘোষণা করেছেন।
জানা গিয়েছে, শিক্ষা দপ্তরের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই শিক্ষকদের সমস্ত বেতন ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সুদও দিতে হবে। আনুষ্ঠানিক বরখাস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই অর্থ আদায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থা যাতে স্বচ্ছ থাকে এবং কেবল প্রকৃত যোগ্য শিক্ষকরাই শ্রেণীকক্ষে থাকেন, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এও জানা যাচ্ছে, কিছু শিক্ষক ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।
বিহারে শিক্ষা দুর্নীতি ইস্যুতে এটাই অন্যতম বৃহত্তম পদক্ষেপ। প্রশ্ন উঠছে, ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম যদি এখন তদন্ত করা হয়, তবে এত বছর ধরে এই বিষয়টি কেন প্রকাশ্যে আসেনি? নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ই প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করা হয়নি কেন? সেই সঙ্গেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিলম্ব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার ত্রুটির জন্য কে দায়ী? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খোঁজা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের পর থেকে নিয়োগ দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠতে থাকে পশ্চিমবঙ্গে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে 'অযোগ্য'দের চাকরি বিক্রির অভিযোগ ওঠে। নাম জড়ায় তৃণমূলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর। জেলবন্দি হন অনেকেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শেষমেশ ২০১৬ সালের এসএসসির প্যানেলভুক্ত ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে যায়। এখন দেখার, বিহারের ঘটনায় দুর্নীতির শিকড় কোথায় পর্যন্ত পৌঁছেছে।
