বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সব জল্পনায় ইতি টেনে জানিয়ে দিয়েছেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। এরপরই ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তোপ দাগল বিহারের প্রধান বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)। তারা জানিয়েছেন, বিজেপি নীতীশ কুমারকে দেশি মাদুরো বানিয়ে দিল।
আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, “আমাদের দলের নেতা তেজস্বী যাদব আগেই বলেছিলেন, নীতীশ অস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী। সেটাই প্রমাণিত হল। ২১ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করা একজন ব্যক্তি এখন রাজ্যসভায় যাচ্ছেন। এটা শিশুসুলভ।” এরপরই তিনি ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে নীতীশের তুলনা টানেন। বলেন, “বিহারের ঘটনা ভেনেজুয়েলায় মাদুরো-হরণের অনুরূপ। নিজের সম্মতিতেই মাদুরো অপহৃত হয়েছিলেন। বিহারে বিজেপি রাজনৈতিক অপহরণ ঘটিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কেউ ভাবতে পারেনি যে নীতিশ কুমারকে এত তাড়াতাড়ি সরিয়ে দেবে বিজেপি। জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর অনেকেই বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করেছে। আবার অনেকেই চান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতিশই থাকুক। এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক অপহরণ। বিজেপির মনোভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।”
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র বলছে, নীতীশের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাঁর পক্ষে ধকল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ছেড়ে তিনি রাজ্যসভায় যাবেন। জেডিইউয়ের অন্দরে নাকি তেমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিহারে ৫ আসনের জন্য রাজ্যসভার নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার শেষদিন ৫ মার্চ। তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। জেডিইউ সূত্র বলছে, নীতীশ রাজ্যসভায় চলে যাবেন। বদলে তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমার সোজা উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বিজেপি সূত্রের দাবি, নিশান্ত বড়জোর উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পদ্ম শিবিরের কাউকেই বসানো হবে। এও বলা হচ্ছে, জীবনসায়াহ্নে পৌঁছে বিজেপির কথামতো আসন ছেড়ে নীতীশ আসলে ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে চাইছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২ আসনেই জয়ী হয় এনডিএ। বিজেপি পায় সর্বোচ্চ ৮৯টি আসন। নীতীশের দল পেয়েছিল ৮৫ আসন। এরপর বর্ষীয়ান নীতীশ দশম বার মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেন।
