আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন। জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে শাসক ও বিরোধী পক্ষ। মঙ্গলবার দলীয় ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি। সেখানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার লাইন মেনে উগ্র হিন্দুত্বেই ভরসা রাখল দল। গেরুয়া শিবির প্রতিশ্রুতি দিল, ভোটে জেতার তিন মাসের মধ্যে লাগু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। এইসঙ্গে বিজেপির দাবি, 'লাভ জেহাদ' এবং 'ভূমি জেহাদ'-এর অবসানে উপযুক্ত কঠোর আইন আনা হবে।
বিজেপির ইস্তেহারের আনুষ্ঠানিক নাম 'সংকল্প পত্র'। যেটি প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং অন্যান্য রাজ্য নেতৃবৃন্দ। 'সংকল্প পত্রে' ৩১টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে রাজ্যবাসীকে। তার মধ্যে অন্যতম হল অভিন্ন দেওয়নি বিধি লাগু, 'লাভ জেহাদ' ও 'ভূমি জেহাদ'-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন। দলটি অহমিয়া জনতার ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত সুরক্ষা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ষষ্ঠ তফসিল ও উপজাতীয় এলাকা ব্যতীত জাতিগত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে।
১৯৫০ সালের অভিবাসী (অসম থেকে বহিষ্কার) আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্যের আদিবাসীদের ভূমি, ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হবে বলা হয়েছে সংকল্প পত্রে। দলটি 'মিশন বসুন্ধরা' প্রকল্পের অধীনে "অবৈধ অভিবাসীদের দখল থেকে জমির প্রতিটি ইঞ্চি মুক্ত করতে এবং অসমের সকল প্রকৃত নাগরিককে জমির অধিকার প্রদান করার" অঙ্গীকার করেছে।
এছাড়াও হিন্দুত্বের কড়া পাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরলে 'সত্র', 'নামঘর', 'দেবালয়' এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের বেদখল হওয়া জমিগুলো মুক্ত করা হবে। এইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়নে 'অসম গতি শক্তি মাস্টার প্ল্যান' বাস্তবায়িত করা হবে। অসমকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে ৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। রাজ্যকে বন্যামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে ‘বাধ মুক্ত অসম মিশন’ চালু করার অঙ্গীকার করেছে দলটি। এছাড়াও জিতে ফিরলে ২ লক্ষ সরকারি চাকরি, প্রত্যেক জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এছাড়াও 'অরুণোদয়' প্রকল্পে রাজ্যের মহিলাদের ভাতা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হবে, বলা হয়েছে ইস্তেহারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, অসমের ইস্তেহার কেবলের অসমের জন্যই নয়, এর মাধ্যমে পড়শি রাজ্য বাংলাকেও বার্তা দিল ভারতীয় জনতা পার্টি।
