৯ বছর পর এশিয়ার ধনীতম পুরসভা বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মুম্বই ছাড়াও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হচ্ছে আরও ২৮টি পুরসভায়। সব মিলিয়ে ৮৯৩টি ওয়ার্ডের জন্য ২৮৬৯টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট ভোটার ৩.৪৮ কোটি। সব মিলিয়ে ২৯টি পুরনিগমে ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১৫ হাজার ৯৩১ জন প্রার্থীর।
তবে এই নির্বাচনে মূল ফোকাসে অবশ্যই বৃহন্মুম্বই পুরনিগম। দেশের তো বটেই গোটা এশিয়ার ধনীতম স্বশাসিত সংস্থা বিএমসি। এর বার্ষিক বাজেট প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এবারে বিএমসিতে মূল লড়াই বিজেপি-শিব সেনা জোটের সঙ্গে ঠাকরেদের। প্রায় দু'দশক বাদে বিএমসি নির্বাচনের জন্যই নিজেদের মধ্যেকার দূরত্ব ঘুচিয়ে একজোট হয়েছেন উদ্ধব ও রাজ ঠাকরে। আসলে সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে মহা ধাক্কা খাওয়ার পর উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনা উদ্ধব এবং রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনা, দুই দলই অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। বস্তুত নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতেই মারাঠী অস্মিতাকে সামনে রেখে একজোট হয়েছে ঠাকরে ব্রাদার্স। তাঁদের মূল লড়াই বিজেপি ও শিন্ডে সেনার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে একসময় মুম্বইজুড়ে দাপট দেখানো কংগ্রেস এখন তৃতীয় শক্তি। তারা জোট করেছে প্রকাশ আম্বেদকরের বঞ্চিত বহুজন বিকাশ আঘাড়ি ও আজাদ সমাজ পক্ষের সঙ্গে।
২২৭ আসনের বিএমসিতে বিজেপি একা লড়ছে ১৩৭ আসনে। শিন্ডে সেনা লড়ছে ৯০ আসনে। মহাজুটির আরেক শরিক এনসিপি আবার জোটে নেই। তাঁরা পৃথকভাবে ৯৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিরোধী শিবিরে উদ্ধব ঠাকরের দল শিব সেনা (উদ্ধব) প্রার্থী দিয়েছে ১৬৩ আসনে। রাজ ঠাকরের এমএনএস প্রার্থী দিয়েছে ৫২ আসনে। কংগ্রেস লড়ছে ১৪৩ আসনে। বঞ্চিত বহুজন বিকাশ আঘাড়ি প্রার্থী দিয়েছে ৪৬ আসনে। অর্থাৎ সব আসনে প্রার্থী নেই কংগ্রেস জোটের। তবে রাজ্যের অন্য পুরনিগমগুলি মিলিয়ে কংগ্রেস ১২৬৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। যা সবচেয়ে বেশি।
২০১৭ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত মুম্বইয়ে মূল লড়াই ছিল শিব সেনা-বিজেপি জোট বনাম কংগ্রেস-এনসিপি জোট। মুম্বই শহরে এনসিপি বা বিজেপির তেমন প্রভাব না থাকায় আসল লড়াইটা অবশ্য শিব সেনা এবং কংগ্রেসের মধ্যে হত। কিন্তু ২০১৭ সালে চার দলই আলাদা আলাদাভাবে লড়াই করে। আর তাতে মূল লড়াই হয় বিজেপি-শিব সেনার মধ্যে। কংগ্রেস পরিণত হয় তৃতীয় শক্তিতে। গত নির্বাচনে ২২৭ আসনের বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে শিব সেনা পায় ৮৬ আসন, বিজেপি পায় ৮২ আসন, কংগ্রেস পায় মাত্র ৩০ আসন এবং এনসিপি পায় ৯ আসন। পরে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার ৬ কাউন্সিলর শিব সেনায় যোগ দেন। এরপর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বহু জল গড়িয়েছে। ভেঙে গিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনা, ও শরদ পওয়ারের দল ভেঙে গিয়েছে। বিজেপি রাজ্যে প্রবল প্রতাপশালী শক্তি। ফলে এবারে বিএমসির ভোট হবে অন্যরকম।
