হরমুজে যুদ্ধের দামামা। স্তব্ধ গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহ। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার মাঠে নামছে ভারতীয় নৌসেনা! যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকা ভারতের তেলের জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য রণতরী পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্র। যদিও এই বিষয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে এই বিষয়ে ইরানের প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনালাপ চলছে ভারতের।
ইরানের ও আমেরিকার যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এই পথে কোনও জাহাজ গেলে তার উপর হামলা চালানো হবে। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিতে নারাজ কোনও সংস্থাই। হরমুজের দুই পাশে ভিড় জমেছে তেলবাহী অসংখ্য জাহাজের। জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে দেশে। এই অবস্থায় ভারতীয় আধিকারিক ক্যাপ্টেন পিসি মিনাকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, হরমুজে আটকে থাকা ভারতের তেলের জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনতে রণতরী পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলির মালিকদের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। এরপরই নৌসেনাকে হরমুজে পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলির মালিকদের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। এরপরই নৌসেনাকে হরমুজে পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবারই সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব যাতে দেশের উপর না এবং সরবরাহ যাতে স্বাভাবিকভাবে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলরা।
তবে সংকট মেটাতে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশে পরিস্থিতি খুব বিশেষ বদলায়নি। এলপিজি সিলিন্ডরের ঘাটতির জেরে দেশের বড় শহরগুলিতে বন্ধ হয়েছে হোটেল রেস্তরাঁ। বিশেষ করে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পুনের মতো শহরগুলিতে রেস্তরাঁ, হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। সরকার আশ্বস্ত করলেও রান্নার গ্যাসের ডেলিভারি ঠিকঠাক নেই বলে অভিযোগ উঠছে।
