বিছানায় অন্য মহিলার সঙ্গে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন স্ত্রীর হাতে। কেরলের পরিবহণ মন্ত্রী কেবি কুমারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ স্ত্রী বিধু মেননের। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন মন্ত্রীমশাই। ৬০ বছরের কেবি কুমার যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, ''ভালোবাসা অপরাধ নয়।''
স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বিধু জানিয়েছেন, কোল্লাম জেলার বালাকোমে আমাদের বাড়িতেই অন্য মহিলার সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন কুমার। মেননের কথায়, “সেদিন আমি বাড়িতে গিয়ে সরাসরি বেডরুমে ঢুকি। সেখানে যা দেখেছিলাম তা এখানে বলার মতো নয়। অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখি দু’জনকে। আমি ওঁদের ছবি ও ভিডিও তুলেছি। যা এখনও আমার কাছেই রয়েছে। এই ঘটনার ছবি তোলার জন্য সেদিন ওই ড্রাইভার আমায় থামানোর চেষ্টা করে। পরে মন্ত্রীর স্টাফ আমায় মারধোর করে।”
এমন অভিযোগে নিশ্চিতভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছেন কেবি। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরি পদত্যাগ করতে পারেন তিনি। এহেন অবস্থায় আত্মপক্ষ সমর্থনে জানাচ্ছেন, ''অভিযোগ সত্যি হোক বা না হোক, এসব তো ব্যক্তিগত বিষয়। এতে কারওই নাক গলানো উচিত নয়।'' কোনও মহিলাকে তিনি অসম্মান করেননি দাবি করে তিনি জানাচ্ছেন, ''ভালোবাসা অপরাধ নয়। সকলেরই প্রেমের অভিজ্ঞতা আছে। এটা চলতে থাকবে।'' তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের কেউই এই অভিযোগ বিশ্বাস করবে না বলে অভিযোগ জানিয়ে কেবি কুমার দাবি করেছেন, তিনি কখনও কোনও দুর্নীতিতেই জড়াননি। উল্লেখ্য, কেবি কুমারের বিরুদ্ধে দাম্পত্যে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রীও। পাশাপাশি অভিযোগ ছিল মারধর করারও। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও লেখেন তিনি। এবার নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তিনি।
কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এই সুযোগে টার্গেট করেছে কুমারকে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভিডি সাথিসান জানিয়েছেন, ''এক মন্ত্রীর স্ত্রী যদি ন্যায় না পান, কেরলের কোনও নারীই কি পাবেন? মুখ্যমন্ত্রীকে এর জবাব দিতে হবে।'' পরিস্থিতি যা, তাতে ভোটমুখী রাজ্যে কেবি কুমারকে ইস্তফা দিতে হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
