সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংখ্যালঘুদের দ্বারা পরিচালিত বা সংখ্যালঘুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনওরকম সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। মহারাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে জানিয়ে দিল বম্বে হাই কোর্ট। বম্বে হাই কোর্টের বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের আওতায় আসে না।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এবার থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জন্য সংরক্ষণের নিয়ম মানতে বাধ্য থাকবে। ওই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে রাজ্যের একাধিক সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দাবি, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (৫) অনুযায়ী সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি সংরক্ষণের আওতায় আসেই না।
বম্বে হাই কোর্ট সেই যুক্তি মেনে নিয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দিয়ে উচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কোনওরকম সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নেই। এর আগে মাদ্রাজ হাই কোর্টও একই রকম রায় দিয়েছিল। এই রায়ের অর্থ রাজ্যের মাদ্রাসা এবং মিশনারি স্কুল বা কলেজগুলিতে তফসিলি জাতি বা উপজাতির পড়ুয়ারা সংরক্ষণ পাবে না।
একদিকে, বিরোধীরা লাগাতার দাবি তুলে সরকারকে একপ্রকার বাধ্য করেছে জাতিগত জনগণনায় রাজি হতে। অন্যদিকে কর্নাটকের মতো কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ নিয়ে বাদানুবাদ চলছে। এই পরিস্থিতিতে বম্বে হাই কোর্টের এই রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
