পার্ক স্ট্রিটের (Park Street) হোম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ তিন মহিলা। তিন মহিলার মধ্যে একজন আবার বাংলাদেশি। অনেক চেষ্টার পরও তাঁদের তিনজনের মধ্যে কারও সন্ধানও মেলেনি। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ওই হোমের পক্ষ থেকে পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। ওই হোমের অভিযোগ, তিন মহিলাকে অপহরণ করে কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। যদিও ঘটনার তিন সপ্তাহ পর কেন হোম কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছুদিন আগেই কড়েয়া এলাকার একটি হোম থেকে পলাতক হয় এক বাংলাদেশি নাবালিকা। এর পর ফের পার্ক স্ট্রিটের হোম থেকে একসঙ্গে তিন মহিলা নিখোঁজ, তথা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে পুলিশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। পুলিশ এর তদন্ত শুরু করেছে। একইসঙ্গে হোমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই তিনজন একসঙ্গেই থাকতেন। তিন সপ্তাহ আগেই তাঁরা একসঙ্গে পালানোর ছক কষেছিলেন। তদন্ত শুরু করার পর ওই হোম এবং এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখেন পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, এই তিন মহিলার মধ্যে ৩১ বছর বয়সের রুনা বেগমের আসল বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকার গুলশন মডেল টাউনে। গত কয়েকমাস আগে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করার পর পার্ক স্ট্রিটের ওই হোমে রাখে। বাকি অন্য দু’জনের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সের সুচিত্রা পার্ক স্ট্রিটের ওই হোমেই বহুদিন ধরে থাকতেন। তিনি মূক ও বধির। এ ছাড়াও মনীশা কুমারী নামে বিহারের ভোজপুরের বাসিন্দা ১৯ বছরের এক তরুণীকেও উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গা হিসাবেই পুলিশ হোমে রেখেছিল।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই তিনজন একসঙ্গেই থাকতেন। তিন সপ্তাহ আগেই তাঁরা একসঙ্গে পালানোর ছক কষেছিলেন। তদন্ত শুরু করার পর ওই হোম এবং এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখেন পুলিশ আধিকারিকরা। তা দেখেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, রাত দু’টো থেকে আড়াইটের মধ্যে তাঁরা একটি চাবি দিয়ে হোমের তালা খুলে মুখ ঢেকে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। পরের দিন সকালে হোম কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে। বিভিন্ন জায়গায় নিখোঁজ তিনজনের সন্ধান চালানো হলেও পাওয়া যায়নি। হোমের আশঙ্কা, তাঁদের অসাহয়তার সুযোগ নিয়ে কেউ বা কোনও চক্র অপহরণ করে লুকিয়ে রাখতে পারে। আবার ওই বাংলাদেশি যুবতী চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়েছেন, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
