সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধীরে ধীরে গলছে দু'দেশের সম্পর্কের বরফ। দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হতে চলেছে ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা! সূত্রের খবর, কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো বিমান সংস্থাগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী মাসেই শুরু হতে চলেছে ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ আগস্ট এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে চিন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০২০ সালে কোভিড অতিমারীর জেরে যার প্রভাব পড়েছিল কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা, দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল, এবং ভিসার উপর। পরবর্তীতে গালওয়ান সংঘাতের কারণে ভারত-চিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর একাধিকবার সামরিক স্তরে বৈঠক হয় দুই দেশের। অবশেষে চলতি বছর বেজিং-এর সবুজ সংকেতের পর শুরু হয়েছে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা। এমনকী গত মাসে চিনা নাগরিকদের টুরিস্ট ভিসা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে ভারত। এবার দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবাও শুরু হতে চলেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে এমনিতেই আশান্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ব। সেখানে উভয় দেশের সুবিধার জন্য চিনও চাইছে ভারতের সঙ্গে নতুন করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত আগ্রহী হয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।
প্রসঙ্গত, চিনের তিয়ানজিনে আয়োজিত এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে আগামী ৩১ আগস্ট চিনে যাবেন মোদি। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘাতের পর এটাই হতে চলেছে মোদির প্রথম চিন সফর। পাশাপাশি সম্প্রতি ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার বিরোধিতা করে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে বেজিং। এই অবস্থায় মোদির সফরের দিকে বাড়তি নজর গোটা বিশ্বের। তার মধ্যেই কেন্দ্রের এহেন সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
