দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। এতদিন পর্যন্ত রাজ্যগুলিকে যে পরিমাণ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হত, এবার সেটা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল ৫ কেজির সিলিন্ডারের জন্য। মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখেই এই ছোট সিলিন্ডারের প্রচলন হয়েছিল। কিন্তু গ্যাস সংকটের মধ্যে এই সিলিন্ডারের যোগানেও পড়েছে টান। সেকারণেই দৈনিক সিলিন্ডার সরবরাহের পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি লিখেছে মোদি সরকার। সেখানে বলা হয়, ৫ কেজির সিলিন্ডারের সরবরাহ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। বাড়তি সিলিন্ডারগুলি কেবল পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যেই বন্টন করা হবে বলেই রাজ্যগুলিকে জানিয়েছে কেন্দ্র। চলতি বছরের মার্চ মাসের ২ এবং ৩ তারিখে যে পরিমাণ ৫ কেজির সিলিন্ডার সরবরাহ করেছে কেন্দ্র, সেটারই দ্বিগুণ সংখ্যক সিলিন্ডার এবার পাঠানো হবে।
কেন্দ্র বারবার দাবি করেছে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চললেও দেশে জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। এইচপিসিএল জানিয়েছে, দেশজুড়ে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার শুরু হয়েছিল মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে। গ্যাসের সংযোগ নিতে গেলে স্থায়ী বাসস্থানের নথিপত্র দিতে হয়। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মস্থলে সেসব নথি অধিকাংশ সময়েই থাকে না। তাই স্রেফ বৈধ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ৫ কেজির সিলিন্ডার দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের আবহে দেশজুড়ে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে প্যানিক বুকিং-কালোবাজারিও। এহেন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই গ্যাস সংকটের জেরে বিপাকে পড়েছেন।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্র বারবার দাবি করেছে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চললেও দেশে জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। এইচপিসিএল জানিয়েছে, দেশজুড়ে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও যুদ্ধের মধ্যে অনেকটা বেড়েছে গ্যাসের দাম। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কালোবাজারি। প্যানিক বুকিং রুখতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এলপিজি সিলিন্ডারে চেপেছে কড়া শর্ত। এহেন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবে সিলিন্ডারের যোগান দ্বিগুণ করল কেন্দ্র।
