আধুনিক যুদ্ধ মানেই আকাশযুদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনের দাপট দেখা যাচ্ছে ইরান যুদ্ধে। এছাড়াও অপারেশেন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মের বিমান বিধ্বংসী কামান বা 'এয়ার ডিফেন্স গান’ কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা। ইতিমধ্যে দরপত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সেনা।
গত কয়েক বছরে পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং জম্মু কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে একাধিক বার ভারতীয় আকাশসীমায় পাক ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। জঙ্গিদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের পাশাপাশি মাদক পাচার, নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ওই ড্রোন। এমন একাধিক ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে সেনা এবং বিএসএফ। এমনিতে ভারতের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষায় রয়েছে পুরনো বফর্স এল-৭০ কামান, রাশিয়ার তৈরি জেডইউ-২৩ বিমানবিধ্বংসী কামান। সমর বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই পুরনো প্রজন্মের অস্ত্রগুলি দিয়ে আধুনিক ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করা সব সময় সম্ভব নয়।
তাছাড়া অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মের ‘এয়ার ডিফেন্স গান’ কিনতে চলেছে সেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি হবে। পুরনো বিমান বিধ্বংসী কামানের পাল্লার আড়াই এবং ৪ কিলোমিটার, নতুন প্রজন্মের ‘এয়ার ডিফেন্স গান’অনেক বেশি দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানবে। এতে ভ্রাম্যমাণ রেডার, ‘ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম’ থাকায় দিনের মতোই রাতেও শত্রুর ড্রোন শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল ড্রোন নয়, মাইক্রোলাইট এয়ারক্র্যাফট্, প্যারা-মোটর এবং প্যারাগ্লাইডারের মতো অপ্রচলিত আকাশযান এমনকী, স্বল্পপাল্লার রকেট ধ্বংস করতেও কার্যকর হবে নতুন প্রজন্মের এই ‘এয়ার ডিফেন্স গান’। বলা বাহুল্য, এর ফলে অনেক বেশি নিরাপদ হবে দেশের সীমান্ত এলাকার আকাশ প্রতিরক্ষা।
