দেশজুড়ে অসন্তোষ। অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। পথে নেমে প্রতিবাদ করছে ছাত্রসমাজ। নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়া নিয়ে দু'মাস পরে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কড়া পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। এবার কি তাহলে সরানো হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে? সূত্রের খবর, প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে কয়েকটি পদক্ষেপ করার কথা ভাবছে মোদি সরকার।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক করে ফেলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ধর্মেন্দ্র স্বয়ং। আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতিবাদী 'ককরোচ'দের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হবে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের জেরে যেসব পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়টিও ভেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র একপ্রকার রাজি হয়ে গিয়েছে পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে।
প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কেন্দ্র যে কিছুটা নমনীয় হবে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল বুধবার নাড্ডার সাংবাদিক সম্মেলন থেকেই। তিনি বলেন, এটা গোটা দেশের সমস্যা। এই পরিস্থিতি দোষারোপ না করে গঠনমূলক আলোচনা হোক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকার আলোচনায় বসতে রাজি। সংসদে কখন কবে আলোচনা করতে চায় বিরোধীরা, সেটা স্পষ্ট করুক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান, “আসুন আমরা প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর নীতি প্রণয়ণ করি। এটা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনই বিরোধীদেরও দায়িত্ব।”
কিন্তু যাঁকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়, সেই ধর্মেন্দ্রকে কি সরানো হবে? সূত্রের খবর, সেই সম্ভাবনা একেবারেই নেই। কারণ মোদি সরকার মনে করছে, নিটের প্রশ্ন ফাঁসের দায় কোনওমতেই শিক্ষামন্ত্রীর নয়। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া বা বরখাস্ত করা হবে না বলেই ধরে নিয়েছে কেন্দ্র। যদিও সোনমের অনশন এবং ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রধান দাবি হল শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্রর অপসারণ না হলে তাঁরা কোনও আলোচনায় বসবেন না। কিন্তু মোদি সরকার মোটেও ধর্মেন্দ্রকে সরানোর পক্ষপাতী নয়।
