দিল্লিতে হারের পরই আম আদমি পার্টি ঘোষণা করেছিল তারা আর ইন্ডিয়া জোটে থাকছে না। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোটের সম্ভাবনা নেই। ক'দিন আগে পর্যন্ত দলের সর্বভারতীয় কনভেনর অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলছিলেন, ভবিষ্যতেও কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নেই। অথচ সেই আপ আবার সেই কংগ্রেসেরই হাত ধরছে। চণ্ডীগড়ের মেয়র নির্বাচনে 'বিজেপিকে হারাতে' একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দল।
আগামী ২৯ জানুয়ারি চণ্ডীগড়ের মেয়র নির্বাচন। কাউন্সিলর নির্বাচন আগেই হয়েছে। বিজেপির দখলে রয়েছে ১৮ জন কাউন্সিলর। আপের দখলে ১১ জন কাউন্সিলর। কংগ্রেসের কাউন্সিলর সংখ্যা ৬। সব মিলিয়ে ১৭ আসন। সেই সঙ্গে কংগ্রেসের সাংসদ মণীশ তিওয়ারিরও ভোটাধিকার রয়েছে। তিনি জোটের পক্ষে ভোট দিলে দুই শিবিরের হাতেই ১৮ ভোট হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে লটারি করে মেয়র নির্বাচিত হবেন। মজার কথা হল, এবার আর ভোট গোপন ব্যালটে হবে না। প্রকাশ্যে ভোট হবে। তাই ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা কম। ফলে লড়াই জমজমাট হবে। সেকারণেই এই জোট। জোটে আপ লড়বে মেয়র পদে। আর কংগ্রেস লড়বে সিনিয়র ডেপুটি মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদে।
কিন্তু কেন এই জোটের দরকার পড়ল? আপ বলছে, বিজেপি হারাতে হলে জোট ছাড়া উপায় ছিল না। এটাই শেষবারের মতো কংগ্রেসের হাত ধরা। কংগ্রেস নেতারাও অজুহাতের সুরে বলছেন, "আমরা নিরুপায়। এখানে আপকে সমর্থন না করলে সংবাদমাধ্যমই আমাদের বলবে আমরা বিজেপিকে সাহায্য করছি।" কারণ যা-ই হোক বাস্তব হল, কটাদিন আগে পর্যন্ত একে অপরের ছায়া না মাড়ানোর শপথ নেওয়া আপ-কংগ্রেস ফের কাছাকাছি চলে এল এই মেয়র নির্বাচনে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আগামী দিনে পাঞ্জাব যেখানে কিনা আপ ও কংগ্রেস প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সেখানে বা গুজরাটে কি জোটের কোনও সম্ভাবনা আছে। দুই শিবিরই বলছে আপাতত না। তবে রাজনীতি সম্ভাবনার অঙ্ক। তাই এখনই সম্ভাবনা পুরোপুরি খারিজ করা বোকামি হবে।
