কারও বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণের। কেউ আবার অভিযুক্ত পকসো মামলায়। দিল্লির যন্তর মন্তর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে হিংসা ছড়ানোয় যে ২ হাজার ৮৭৩ জনকে সনাক্ত করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক সব অভিযোগ উঠছে।
দিল্লি পুলিশ যা তথ্য দিচ্ছে, সেটা সত্যি হলে যন্তরমন্তরে আরশোলাদের বিক্ষোভে যে সমাজ বিরোধীরা ঢুকে পড়েছিল, সেটা এবার দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। দিল্লি পুলিশ বলছে, বিক্ষোভের সময় হিংসায় জড়িত থাকা মোট ২ হাজার ৮৭৩ জনকে সনাক্ত করে দিল্লি পুলিশ। মিছিলের পর দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে ‘ফেস রেকগনিশন সিস্টেম’ (এফআরএস) ব্যবস্থা স্থাপন করে। এর মাধ্যমেই আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করা হয়। দিল্লি পুলিশের সূত্রের বক্তব্য, মিছিলে তারা ছুরি, ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল। সেগুলি নিয়েই তারা পুলিশের উপর হামলা চালায়।
পরে দিল্লি পুলিশ নিজেদের অতীতের 'অপরাধ কুণ্ডলী' খতিয়ে দেখে ওই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব তথ্য পেয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী শনাক্ত হওয়া ওই হাজার ৮৭৩ বিক্ষোভকারীর মধ্যে ৯৮৯ জনেরম নামে অতীতে কোনও না কোনও অপরাধে জড়িয়ে থাকার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১০১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগ। ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ৬১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে। ২৫ জনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা আছে। এছাড়াও রয়েছে চুরি-রাহাজানির মতো মামলা। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই ওই বিক্ষোভের 'চরিত্র' নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে ‘ককরোচ’রা। তাঁদের একাধিক দাবি থাকলেও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি ছিল প্রধান। তাঁদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেন পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। ধীরে ধীরে রাজধানীর বুকে এই আন্দোলন বড়সড় বিদ্রোহের রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেয় কেন্দ্র। শনিবার ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্রও। পরে বিক্ষোভ তুলে নিয়েছে ককরোচরা।
