ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই উত্তাল দিল্লি। বুধবার রাতে তাঁদের কয়েকজন সদস্য পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের একটি সূত্রের খবর, ‘দাঙ্গা’য় অভিযুক্তদের পাসপোর্ট বাতিল হতে পারে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে আইনি ব্যবস্থাও।
দিল্লি পুলিশের তরফে অনুমতি না দেওয়া হলেও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকালে সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করে ‘আরশোলা’দের এই অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। প্রায় ৫০০০ পুলিশ ও আধা সেনা নামিয়ে কার্যত ঘিরে ফেলা হয় যন্তর মন্তর চত্ত্বর। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। তারপর থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি রাজধানীতে।
এদিকে দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ। গোটা দেশের যুবসমাজের মধ্যে ককরোচ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। পড়ুয়াদের ওই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে বিরোধীরাও। স্বাভাবিকভাবেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই বলেছিলেন, “প্রশ্নফাঁস মহাপাপ।” বৃহস্পতিবার ফের একবার বার্তা দেন তিনি। বলেন, “ছাত্রদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে কিছুই নয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করবে না সরকার। দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, পড়ুয়াদের দাবি মেনে প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। প্রত্যেক দোষী যাতে দ্রুত কঠোর শাস্তি পায়, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করছে। এক্স হ্যান্ডেলে মোদির পোস্ট, ‘সব প্রশ্নফাঁসের দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়ার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য সব দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি। পড়ুয়াদের স্বার্থ সুরক্ষায় বহু পদক্ষেপ সরকার করছে, এটা সেগুলির মধ্যে অন্যতম। যারা আমাদের পড়ুয়াদের ক্ষতি করতে চায় তাঁদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না।'
