ককরোচ জনতা পার্টি তথা পড়ুয়াদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই সাফল্যের মধ্যেই বিতর্কে 'আরোশোলা'রা। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার খুশিতে বিলাসবহুল হোটেলে উদ্দাম বলিউডি গানের সঙ্গে নাচে মেতে উঠতে দেখা গেল সিজেপির অন্যতম মুখ সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা-সহ বেশ কয়েকজনকে। সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠছে, কোথা থেকে আসছে এত টাকা?
সিজেপিরই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছে বিতর্কিত ভিডিওটি। ক্যাপশানে লেখা হয়েছে 'ইস্তফার খুশিতে'। বলা বাহুল্য, এই ইস্তফা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ আন্দোলনের পর নিজেদের ‘জয়’ উদযাপন করছে সিজেপি সদস্যরা। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-সহ অন্যদের বলিউডি গানের তালে নাচতে দেখা গিয়েছে। এই ভিডিও নিয়ে নেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অধিকাংশই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের শিক্ষার্থীরা এখনও আন্দোলনের আঁচের রয়েছেন, সেই সময়ে এই উদযাপন কতটা যথাযথ!
বিতর্ক বাড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। সিজেপির জয় উদযাপনের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপগুলো দেখার পর তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই বিক্ষোভের অর্থায়নের উৎস কী? এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "সত্যিই? সিজেপি নেতৃত্ব হোটেলে বিজয় উৎসব করছে! দিল্লিতে কয়েকদিন ধরে হিংসা চলার পর, এই তথাকথিত যুবকর্মীরা গান চালিয়ে নাচতে শুরু করল!" তাঁর প্রশ্ন, “আন্দোলন চলাকালীন যাতায়াত, খাবার, থাকা-খাওয়া, সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার খরচ কারা জুগিয়েছে? যারা দিল্লিকে উত্তপ্ত করে রেখেছিল, তাদের অর্থায়ন কারা করেছে?”
এক নেটিজেনের মন্তব্য, "প্রথমবার কোনও ফাইভ-স্টার হোটেলে গিয়েছিলাম যখন বাইরে থেকে আসা এক নিয়োগকারী আমাদের দুপুরের খাবারের জন্য সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ যারা ‘নিট’ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বলে মনে হয়, তারা ফাইভ-স্টার পার্টির খরচ জোগায় কোথা থেকে?" আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আপনারা আসলে কীসের উদযাপন করছেন?” তৃতীয় একজন প্রশ্ন তুলেছেন, “বিষয়টা কী ছিল? উদ্বেগের কারণ কী ছিল? এরা আসলে কী উদযাপন করছে?”
অনেকেই এই উদযাপনের ভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক নেটাগরিকের মন্তব্য, "অ্যামিটি ইউনিভার্সিটির কোনও স্নাতক যখন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, তখন এমনটাই ঘটে।" এখনও পর্যন্ত মহেশ জেঠমালানির বিতর্কিত প্রশ্নের কোনওরকম উত্তর দেয়নি ককরোচ জনতা পার্টি।
