তৃণমূল তুমি কার? তা নিয়ে কালীঘাট এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত। এরই মধ্যে এবার রাজধানী দিল্লির বুকে কার্যালয় খোলার তোড়জোড় শুরু করে দিল ঋতব্রত শিবির। খুব শীঘ্রই সেই দপ্তর খোলা হতে পারে বলে খবর। তবে দিল্লির কোথায় তা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দিল্লিতে জায়গা দেখা হচ্ছে। তবে কবে, কোথায় তা খোলা হবে সে বিষয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দিল্লিতে কোনওদিনও তৃণমূলের কার্যালয় ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ থাকাকালীন দিল্লিতে তাঁর বাংলো থেকেই যাবতীয় কাজ সারতেন।
রাজ্যে পালাবদলের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর ভেঙে খান-খান! প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে একের পর এক বিধায়ক, নেতা তাঁর সঙ্গ ছাড়েন। যোগ দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে। ৬০ জনেরও বিধায়ক এই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে। শুধু তাই নয়, একের পর এক পুরসভার কাউন্সিলর থেকে শুরু করে জেলার তৃণমূল নেতারাও ঋতব্রতর সঙ্গে। এরপরেই চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সরিয়ে অরূপ রায়কে ওই পদে নিয়ে আসা হয়। গঠন করা হয়েছে জাতীয় কর্মসমিতিও। লড়াই এখন প্রতীক এবং ফান্ডের। ইতিমধ্যে প্রতীকের 'দখল' চেয়ে দিল্লিতে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। পালটা কালীঘাট শিবিরও এই বিষয়ে পালটা চিঠি দিয়েছে। কার হাতে প্রতীক থাকবে তা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। এর মধ্যেই এবার দিল্লিতে কার্যালয় জায়গা দেখতে শুরু করে দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেই খবর।
বলে রাখা প্রয়োজন, দিল্লিতে কোনওদিনও তৃণমূলের কার্যালয় ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ থাকাকালীন দিল্লিতে তাঁর বাংলো থেকেই যাবতীয় কাজ সারতেন। এরপর যদিও মুকুল রায়ের রাজ্যসভার সাংসদ হলে তাঁর বাংলো হয়ে উঠেছিল দিল্লির কার্যালয়। এরপর নাদিমুল হকের ৬১ নম্বর সাউথ এভিনিউয়ের দিল্লির বাড়িতে তৃণমূলের কার্যালয় খোলা হয়। সেখান থেকে দীর্ঘদিন তৃণমূলের যাবতীয় কাজ চলত। মাঝে যদিও বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাড়িতে কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয়। সংসদ ভবনের ঢিল ছোড়া দূরত্বে ওই বাড়ি। কিন্তু দীর্ঘদিনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী পার্থ এখন বিদ্রোহী। তাঁর হাত ছেড়ে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই-তে। ফলে সেখান থেকে কালীঘাট তৃণমূলের অফিস ফের সরে গিয়েছে নাদিমুল হকের ৬১ নম্বর সাউথ এভিনিউয়ের দিল্লির বাড়িতে। যে গুটিকয়েক সাংসদ এখনও মমতার নেতৃত্বে আস্থা রেখে দলের কথা বলছেন, সেই সাংসদদের মধ্যে একজন নাদিমুল। সেখান থেকেই এখন দিল্লির কার্যকলাপ চালাচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল। এবার দিল্লির বুকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা দিতেই ঋতব্রত শিবিরের নতুন পার্টি অফিস খোলার সিদ্ধান্ত বলেই মত রাজনৈতিকমহলের।
