প্রত্যাশামতোই সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে ফের রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে কংগ্রেস। তেলেঙ্গানা থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়ার শেষদিন। এদিন ৬ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে চমক বিশেষ নেই। আশা জাগিয়েও শেষপর্যন্ত টিকিট পেলেন না বাংলার দীপা দাশমুন্সী।
বুধবার যে ৬ আসনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তাতে তেলেঙ্গানার একটি নিশ্চিত আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে অভিষেক মনু সিংভিকে। আসলে সিংভি কংগ্রেসের জন্য ভীষণ জরুরি। দলের এবং গান্ধী পরিবারের যত আইনি জটিলতা আছে, সেগুলির নিস্পত্তিতে হাত শিবিরের মূল ভরসা তিনিই। তেলেঙ্গানার অপর আসনটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি সেই আসনে বিআরএস প্রার্থী দেয়, তাহলে লড়াই হতে পারে। সেই আসনটির জন্য মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির ঘনিষ্ঠ ভেম নরেন্দ্র রেড্ডিকে টিকিট দিয়েছে দল। এই তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসকে জেতাতে বড় ভূমিকা ছিল বাংলার নেত্রী তথা এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সীর। কেউ কেউ মনে করছিলেন, এবার দীপার কপালে শিকে ছিঁড়লেও ছিঁড়তে পারে। কিন্তু দীপার ভাগ্য খুলল না।
তামিলনাড়ুতে জোট শরিক ডিএমকের দয়ায় একটি রাজ্যসভা আসন পাচ্ছে কংগ্রেস। সেই আসনে টিকিট দেওয়া হয়েছে খ্রিস্টোফার তিলককে। এছাড়া ছত্তিশগড় ও হরিয়ানাতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ছত্তিশগড় থেকে ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে ফুলো দেবী নেতামকে। ওই আদিবাসী নেত্রী ১৩ বছর আগে নকশাল হামলার মুখে পড়েন। কিন্তু সেবার কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন। ওই হামলায় একযোগে প্রাণ হারান ২৪ জন প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা। এছাড়া হিমাচলে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এবং হরিয়ানায় হুডা ঘনিষ্ঠদের প্রার্থী করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে অসম ও রাজস্থানে কংগ্রেস আসন জয়ের জায়গায় থাকলেও এখনও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
২৪৫ আসনের মধ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির হাতে রয়েছে ১০৩ জন সাংসদ। এনডিএ’র সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৩৩। যা ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি। তবে, এবারের ভোটের পর এই সংখ্যাটা আরও অনেকটাই বাড়বে বলে আশা গেরুয়া শিবিরের। এদিকে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অবস্থা সংকটজনক। এই মুহূর্তে বিরোধী শিবিরের সাংসদ সংখ্যা ৭৯। এর মধ্যে ২৭টি কংগ্রেসের। তৃণমূলের ১২ এবং বিজেপির ১০ আসন রয়েছে। হিসাব বলছে, এবারের ভোটের পর এই সংখ্যাটা আরও কমে ৭৫-এ নামতে পারে। তবে কংগ্রেসের আসন দু'একটা বাড়তে পারে।
