নিজেদের সংগঠনে জোর নেই। ভোটব্যাঙ্কও বিরাট শক্তিশালী নয়। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ডিএমকের দেওয়া শর্তেই তামিলনাড়ুতে জোটে রাজি হয়ে যেতে পারে কংগ্রেস। তবে ‘বোনাস’ হিসাবে একটি রাজ্যসভার আসন ও বিধানসভায় গোটা তিনেক অতিরিক্ত আসন লড়াই করার সুযোগ পেতে পারে হাত শিবির। আসলে, ডিএমকের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর টালবাহানা করার সময় নেই, জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ৬ মার্চের মধ্যেই। নাহলে রাজ্যসভার আসন হারাতে হবে। সেই চাপেই সুর নরম হাত শিবিরের।
আসলে বিধানসভা ভোটে দ্রাবিড় রাজনীতিতে নুতন সমীকরণের জল্পনা চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। এতদিন দেশের অন্য প্রান্তে ইন্ডিয়া জোটে ছোটখাট বিবাদ-অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলেও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট গত কয়েক বছর মসৃণভাবেই এগিয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলায় এ বছর বিধানসভা ভোটের আগে। বেশ কিছুদিন ধরেই ডিএমকেতে ক্ষোভ জমছিল রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে। ক্ষোভের মূল কারণ, অসম্মান। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস এবং ডিএমকের জোট যতই মসৃণ হোক, রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না ডিএমকে। লোকসভায় ৩৯ আসনের মধ্যে কংগ্রেসের জন্য ৯ আসন ছাড়া হলেও বিধানসভায় সে তুলনায় অনেক কম আসন ছাড়া হয়। এমনকী, সে রাজ্যে ডিএমকে কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় থাকলেও সরকারে কংগ্রেসের কোনও অংশিদারিত্ব নেই। স্থানীয় পুরসভা, বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডেও কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমন বিবিধ অভিযোগ তুলে ডিএমকের সঙ্গ ছাড়ার বার্তা দিচ্ছিলেন অনেক নেতা। দলের অন্দরে কেউ কেউ স্বাবলম্বী হয়ে একলা চলার পক্ষে ছিলেন। কেউ আবার অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল টিভিকে’র সঙ্গে হাত মেলানোর পক্ষে ছিলেন।
রাহুল-স্ট্যালিনের পুরনো বন্ধুত্ব। ফাইল ছবি
এই পরিস্থিতিতে পালটা চাপ দিল ডিএমকেও। তাঁরা সাফ বলে দিল, জোট নিয়ে আর টালবাহানা করার সময় নেই। কংগ্রেস যদি ডিএমকের সমর্থনে রাজ্যসভা আসন জিততে চায় তাহলে আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বিধানসভা ভোটের আসনরফা চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে কংগ্রেসকে। আসলে ১৬ মার্চ দেশের ১০ রাজ্যে রাজ্যসভা নির্বাচন। তামিলনাড়ুর ছ’টি রাজ্যসভা আসনে এই পর্বে ভোট হবে। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে তার মধ্যে অন্তত চারটিতে ‘ইন্ডিয়া’র জেতার সম্ভাবনা। সেই চারটির মধ্যেই একটি জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডিএমকে। পালটা তাঁদের দাবি, রাজ্যে বেশি আসনে লড়ার ব্যাপারে জোরাজুরি করা যাবে না। শুক্রবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের সঙ্গে বৈঠকে স্ট্যালিন সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যসভা আসন পেতে হলে জোট নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তারপরই সুর নরম করে কংগ্রেস। কিছুদিন আগে পর্যন্ত যে হাত শিবির রাজ্যে অন্তত ৪০ আসন লড়ার দাবিতে অনড় ছিল তাঁরাই শনিবার সুর অনেকটা নরম করে ডিএমকের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়েছে। কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল এদিন ডিএমকের দপ্তরে যায়। দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক গিরিশ চডঙ্কর জানিয়ে দিয়েছেন, "ডিএমকের সঙ্গে আমাদের জোট অটুট এবং অনড়।" যার অর্থ, ডিএমকে যে ২৭-২৮ আসন তাঁদের ছাড়তে রাজি হয়েছে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে হাত শিবির। সেই বড়জোড় ২০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে কংগ্রেসের যুক্তি একটি রাজ্যসভার আসনও ৬টি বিধানসভার সমান।
