শুধু বাংলায় নয়। অন্যরাজ্যেও বিজেপিকে হারাতে বদ্ধপরিকর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর পরামর্শেই উত্তরপ্রদেশে যোগীকে হারাতে আই প্যাকের সাহায্য নিতে চলেছেন অখিলেশ যাদব। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমোর সঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছেন আই প্যাক কর্তারা।
২০১৭, ২০২২ পরপর দুই বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছেন অখিলেশ। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন তাঁর জন্য কার্যত অস্তিত্বরক্ষার লড়াই। এই পরিস্থিতিতে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো প্রচারে কর্পোরেট ছোঁয়া চাইছেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে টেক্কা দেওয়ার পর খানিকটা আত্মবিশ্বাসী সমাজবাদী পার্টি। কিন্তু লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন এক নয়। তাছাড়া ভোটে জিততে যে শুধু আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট নয়, সেটার জন্য তথ্যভিত্তিক এবং ন্যারেটিভ ভিত্তিক প্রচারের প্রয়োজন। সেটার জন্যই আই প্যাকের মতো পেশাদার পরিসংখ্যান ধরে ধরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রচার করতে চাইছেন।
নবান্নে মমতা ও অখিলেশের বৈঠক।ফাইল চিত্র।
গত জানুয়ারিতে বাংলায় এসেছিলেন অখিলেশ যাদব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে কথা হয়েছে তাঁর। সূত্রের খবর, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীই অখিলেশকে আইপ্যাকের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই মতো অখিলেশও আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি পাকা করে ফেলেছেন। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সমাজবাদী পার্টির নেতাদের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠকও করেছেন আইপ্যাকের কর্তারা। তাঁদের বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই মতো কাজ শুরুও করে দিয়েছেন সপা বিধায়করা।
আইপ্যাক সূত্রের খবর, বাংলার ভোটের পরই পুরোপুরি উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে হারানোর কাজে লেগে পড়বে তারা। ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টির সোশাল মিডিয়ার প্রচারের কাজ তাঁরা শুরু করেছে। মূলত ফেক নিউজ এবং এআই দিয়ে অপপ্রচারের মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলার ভোটের পরই সে রাজ্যে পুরোপুরি ঝাঁপাবে আই প্যাক। আই প্যাকের এক কর্তা জানিয়েছেন, "এই মুহূর্তে আমাদের বেশিরভাগ কর্মী বাংলায় ব্যস্ত। তাই আমরা সোশাল মিডিয়াটার প্রচারটা দেখছি। বাংলার ভোটের পরই পুরোপুরি মাঠে নেমে পড়ব প্রচারে।" আরও একটা মজার কথা হল, অখিলেশ যাদবের সঙ্গে নাকি আই প্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরেরও বৈঠক হয়েছে। প্রশান্ত ইতিমধ্যেই ভোটকুশলীর কাজ ছেড়ে নিজের দল খুলে রাজনীতিতে নেমে পড়েছেন। তবে শোনা যাচ্ছে, অখিলেশকে তিনিও সাহায্য করতে পারেন।
