বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: দল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলায় আসনরফা নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। জানালেন কংগ্রেসের এক শীর্ষনেতা। তবে চলতি সপ্তাহেই দলের তরফে আসনরফা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাইকমান্ড নেবে বলেও জানান। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীকে কঠোর বার্তা বলেই মনে করছে দলের একাংশ। কারণ, প্রদেশ সভাপতি তৃণমূলের সঙ্গে জোটের বিরোধী হলেও হাইকমান্ডের কাছে তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আপের দাবির কাছে কংগ্রেস যে মাথানত করবে না বুধবার দলের তরফে তাও জানিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষনেতার বক্তব্য, চাঁদে জমি চাইলেই তো পাওয়া যায় না। তেমনি দিল্লি ও পাঞ্জাবে আসনরফার বদলে গুজরাট ও গোয়ার মতো রাজ্যে অবান্তর আসন দাবি করলে তা ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ওই শীর্ষনেতা।
[আরও পড়ুন: খাস কলকাতার রাস্তায় মদ্যপের তাণ্ডব, ভ্যানচালককে ধাক্কার পর গাড়ির উপর নাচ যুবকের!]
তেরোটি রাজ্যে কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, গত লোকসভায় কংগ্রেস সারা দেশে ৪০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এবার ২৫৫ থেকে ২৭৫টি আসনে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। ইন্ডিয়া জোটে আসনরফার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
কংগ্রেস এই মুহূর্তে রাজ্যে-রাজ্যে দর কষাকষির মুধোমুখি। দিল্লির সাতটি আসনের মধ্যে আপ কংগ্রেসকে তিনটি আসন ছাড়তে চায়। পাঞ্জাবে আপ তেরোটির মধ্যে ছটি আসন ছাড়তে চায়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের দল আপ পূর্ব দিল্লি, উত্তর-পূর্ব দিল্লি এবং চাঁদনি চকের মতো আসনে লড়াই করতে চায়। সেই সঙ্গে পাঞ্জাব ছাড়াও গুজরাট, হরিয়ানা ও গোয়াতে আসন ছাড়াও দাবি জানিয়ে রেখেছে। দাবি করলেই হবে না। জনসমর্থন যাচাই করেই আসনরফা করতে হবে বলে জানান কংগ্রেসের ওই শীর্ষনেতা। তবে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে, বাম ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আসনরফা সম্পন্ন হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও বিহারে আসনরফা শেষ পর্যায়ে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে কথা শুরু করা হবে বলে জানান। তৃণমূলের থেকে ১০টি আসন দাবি করে কথা শুরু হবে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কটি আসন ছাড়তে রাজি হবে তার ওপরেই বাংলায় জোটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। তবে ইন্ডিয়া জোটের সাধারণ কোনও ইস্তাহার থাকবে না।
