দেশজুড়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি নিয়ে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই সংসদে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান পেশ করল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। কেন্দ্র স্বীকার করে নিল, ইডি যত গর্জায়, তত বর্ষায় না। দেশজুড়ে ইডির মামলায় শাস্তির হার ১ শতাংশেরও কম।
তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার ও সাংসদ মহুয়া মৈত্রের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, ২০১৪-'১৫ থেকে ২০২৫-'২৬, এই ১২ বছরে ইডি ১১,৩৫৩টি তল্লাশি চালালেও শাস্তি হয়েছে মাত্র ১২৩ জনের। অর্থাৎ সাফল্যের হার অত্যন্ত করুণ। এক শতাংশের সামান্য বেশি।
সবচেয়ে বেশি তল্লাশি হয়েছে লোকসভা ভোটের আগের বছর ২০২৩-'২৪ সালে। ২,৬০০ জায়গায় অভিযান। কিন্তু সাজা পেয়েছে মাত্র ১৯ জন। পরের বছরগুলিতেও একই ছবি। অথচ রাজ্যভিত্তিক তথ্য দিতে পারেনি সরকার। বিরোধীদের দাবি, ইডি যে অপরাধ দমনের হাতিয়ার নয়, মোদি সরকারের রাজনৈতিক অস্ত্র, সেটা স্পষ্ট সরকারের দেওয়া উত্তর থেকেই।
উল্লেখ্য, বিরোধী নেতৃত্ব বরাবরই ইডির কার্যকলাপ নিয়ে সুর চড়িয়েছে। সম্প্রতি সেই বিষয়টি নিয়ে তিরস্কার করছে শীর্ষ আদালতও। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিনকয়েক আগেই শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বলে, রাজনীতির লড়াইয়ে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাজনীতির স্বার্থে অপব্যবহৃত হচ্ছে ইডি। এছাড়া প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নাও ইডিকে তোপ দেগে বলেছিলেন, অভিযুক্তকে জেলে আটকে রাখতেই লাগাতার চার্জশিট তৈরি হচ্ছে। আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়াকে জামিন দেওয়ার সময়েও এই বিষয়টি উল্লেখ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
