গৌরব গগৈ-হিমন্ত বিশ্বশর্মা দ্বন্দ্ব চরমে। এবার কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। ওই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জিতেন্দ্র সিং, ভূপেশ বাঘেলকেও। হিমন্তের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জমি দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত সপ্তাহে অসম প্রদেশে কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, রাজ্যজুড়ে হিমন্ত শর্মা এবং তাঁর পরিবারের লোকেদের নামে ১২ হাজার বিঘে জমি রয়েছে। বিষয়টি জানার পরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বাস্তবেই সেই কাজ করেছেন মঙ্গলবার। এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, আজ আমি ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছি কংগ্রেস নেতা জিতেন্দ্র সিং, ভূপেশ বাঘেল এবং গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে। সাংবাদিক সম্মেলনে ওঁরা মিথ্যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর অভিযোগ এনেছিল আমার বিরুদ্ধে।
২০১৫ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সম্প্রতি তিনি বলেন, "গান্ধী পরিবারের দাসদের" প্রচার, অপবাদ বা রাজনৈতিক নাটককে "ভয় পান না"। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, "হিট অ্যান্ড রান রাজনীতির যুগ শেষ। যদি তাঁদের এক আউন্সও সাহস থাকে, তাহলে যেন তাঁরা আদালতের সামনে প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণ করেন।"
সোমবার গগৈয়ের পাক সফর নিয়ে আবার প্রশ্ন তোলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস সাংসদের ভ্রমণ নিয়ে যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। হিমন্ত বলেন, “গগৈ নিজেই জানিয়েছেন তক্ষশিলা ইসলামাবাদে নয়, রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত। এই বিষয়গুলি এড়িয়ে যাওয়ার নয়।” তিনি আরও বলেন, “গগৈয়ের পাকিস্তান ভিসায় যদি স্পষ্টভাবে লাহোর, ইসলামাবাদ ভ্রমণের অনুমতি থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে তক্ষশীলা পরিদর্শন করলেন? এটি ইসলামাবাদের বাইরে। পাকিস্তানের অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ অনুমোদন ছাড়া ভিসা-নির্ধারিত শহরগুলির বাইরে ভ্রমণের অনুমতি দওয়া হয় না।”
এরপরই হিমন্তকে পালটা হুঁশিয়ারি দেন গগৈ। গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “হিমন্ত সিট রিপোর্টটি উদ্ধৃত করেছিলেন, তা গত ছয় মাস ধরে হিমঘরে পড়েছিল। কারণ, আমার পাক-যোগ প্রমাণে তারা ব্যর্থ। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর গোটা অভিযোগকে তিনি একটা ‘ফ্লপ রাজনৈতিক নাটক’ বলেও অভিহিত করেছেন। হিমন্তকে কটাক্ষ করে গগৈ আরও বলেন, “”উনি এত নিচে নেমে গিয়েছেন যে আমার সন্তানদেরও ছাড়ছেন না। আমরাও তাঁর সন্তানদের সম্পর্কেও জানি। প্রত্যেকে জানে। কিন্তু আমরা তাঁর পরিবারকে কোনওদিন রাজনীতিতে টেনে আনিনি। আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।”
