৫০ বছরের বিবাহবার্ষিকীকে আচমকাই স্ত্রী আরতিকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আশি ছুঁইছুঁই বিশ্বনাথ। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় পরিচালিত 'বেলাশেষে' ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত সেই বিশ্বনাথ চরিত্রের এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন আরতি (স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত)! গোটা পরিবারে ঝড় নেমে এসেছিল। সেই রকমই এক পরিস্থিতি তৈরি হল রাজস্থানের জয়পুরের এক পরিবারে। ৫৮ বছর সংসারের পর আচমকাই বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন স্বামী। সেই মামলা পারিবারিক আদালত থেকে পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও।
কিন্তু স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা শুনতেই চাইল না শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুদেশ বনসল এবং বিচারপতি অনিলকুমার উপমানের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বৈবাহিক সম্পর্কে ছোটখাটো ঝগড়া-অশান্তি হয়েই থাকে। এই সময় বিবাহ-বিচ্ছেদ হলে তাঁর স্ত্রী তো বিপাকে পড়বেনই, গোটাই পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের সম্মানহানি হবে সমাজে।
১৯৬৭ সালের জুনে বিয়ে হয়েছিল দম্পতির। তারপর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাঁরা নির্বিঘ্নেই সংসার করেছেন। তাঁদের দুই ছেলেও রয়েছে। ২০১৪ সালে তাঁদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে। স্বামীর দাবি, তিনি চেয়েছিলেন দুই ছেলের মধ্যে সমানভাবে সম্পত্তি ভাগ করে দিতে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী চেয়েছিলেন ছোট ছেলেকে বাদ দিয়ে স্থাবর সম্পত্তির পুরোটাই বড় ছেলেকে দিয়ে দিতে। এই নিয়ে বিবাদ শুরু হওয়ার পর আরও নানা বিষয় জুড়ে যায়। স্বামীর আরও অভিযোগ, তিনি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর নামে কুৎসা রটাচ্ছে তাঁর স্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে পণের দাবিতে হেনস্তার অভিযোগও দায়ের করেছেন পুলিশে।
স্বামীর দায়ের করা বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা প্রথম ওঠে ভরতপুরের পারিবারিক আদালতে। সেই আদালত মামলা খারিজ করে দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু শীর্ষও বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা খারিজ করে দিয়েছে।
