রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগদানে বিশেষ অবাক হয়নি আপের শীর্ষ নেতৃত্ব। অনেকদিন আগেই তাঁকে খরচের খাতায় ফেলে রেখেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু কেজরি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ধাক্কাটা খেয়েছেন রাঘবের সঙ্গে অশোক মিত্তলের গেরুয়া যোগে। এই অশোককে তিনি ভরসা করতেন অন্ধভাবে। এমনকী রাঘবকে সরিয়ে তাঁকেই দলের রাজ্যসভার উপদলনেতা করেছিলেন আপ সুপ্রিমো।
বস্তুত অশোক মিত্তল আসলে পাঞ্জাবের বিখ্যাত মিষ্টি ব্যবসায়ী। মিষ্টির ব্যবসায় খ্যাতি, সেখান থেকে লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছেন। আরও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। নিন্দুকেরা বলেন, আপের রাজনৈতিক তহবিলের একটা বড় অংশ আসত অশোক মিত্তলের পকেট থেকেই। এমনকী কেজরিওয়াল তাঁর উপর এতটাই আস্থা করতেন যে দিল্লিতে হারের পর সরকারি বাংলো থেকে বেরিয়ে অশোক মিত্তলের নামে বরাদ্দ সরকারি বাংলোতেই ওঠেন। অশোকের বিজেপিতে যোগদানের কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত তাঁর বাংলোতেই ছিলেন।
প্রশ্ন হল, কেজরির এত বিশ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন বিজেপিতে গেলেন অশোক? এর নেপথ্যে ইডির কারসাজি দেখছে আপ। আসলে দিন দশেক আগেই অশোক মিত্তলের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গুরুগ্রাম ও জলন্ধরের আরও ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। সবটাই অশোক মিত্তলের সম্পত্তি। আপ বলছে, ইডির হানায় ভয় পেয়েই বিজেপিতে গিয়েছেন অশোক। আপের দাবি, দলত্যাগী সব সাংসদের সঙ্গেই কথা বলতে চেয়েছিলেন আপ সুপ্রিমো। কিন্তু তাঁরা সেই সময়টুকু দেননি।
বস্তুত, আপের আশঙ্কায় সিলমোহর দিয়ে শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গী হয়েছেন আরও ৬ আপ সাংসদ। আপ থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানি। যা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় কেজরিওয়াল বলেন, বিজেপি আবার পাঞ্জাবিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।
