সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চার বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানোর পর সেই রায় পুনর্বিবেচনার অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত। এবিষয়ে শীর্ষ আদালতের যুক্তি, শাস্তির জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা অনুসরণ না করা হলে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে এই মামলা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
২০১৭ সালে ৪ বছরের বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নাগপুরের বাসিন্দা ভাসন্ত সম্পতা দুপারেকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছিল নিম্ন আদালত। শীর্ষ আদালতেও সেই রায় বহাল থাকে। এরপর সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন ভাসন্ত। সেই মামলাতেই এবার বেনজির পদক্ষেপ করল শীর্ষ আদালত। মামলায় শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠিন শাস্তির ঘোষণার আগে আদালতকে অবশ্যই অভিযুক্তের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সংশোধনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ২০২২ সালে মনোজ বনাম মধ্যপ্রদেশ সরকারের রায়ের অংশ তুলে ধরে শীর্ষ আদালত। যেখানে বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল এবং মৃত্যুদণ্ডের আগে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা-সহ সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনায় দেওয়া হয়। এই ধরনের শাস্তি কখনই পদ্ধতিগতভাবে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। আদালতে সকলেই ন্যায় বিচার ও মৌলিক অধিকারের দাবিদার। মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে সবদিক অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। এবিষয়ে বিচারপতিদের মত, মৃত্যুদণ্ডের অর্থ একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যাওয়া ফলে এই ধরনের বিচার প্রক্রিয়ায় সামান্যতম ত্রুটিও বরদাস্ত করা হবে না।
