পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতেও জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। এই আবহে দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনাকালের কথা স্মরণ করিয়ে আমজনতাকে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পেট্রল-ডিজেল যাতে কম ব্যবহার হয় সেই কারণেই এই আর্জি জানান তিনি। মোদির সেই আর্জি মেনেই এবার পদক্ষেপ করল দিল্লি সরকার। সরকারের সকল কর্মচারী এবার থেকে সপ্তাহে দুই দিন বাড়ি থেকে কাজ করবেন। অফিসের ৫০ শতাংশ বৈঠক হবে অনলাইনে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করা হয়েছে।
দিল্লি সরকার এবং দিল্লি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে। অফিস টাইমের ব্যস্ত সময়ে যানজট ও জ্বালানি ব্যবহার কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, সঠিকভাবে জ্বালানি ব্যবহারের জন্য একটি ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করছে দিল্লি সরকার। সরকারি যানবাহনের ব্যবহারও কমানো হচ্ছে। কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ পেট্রলের সীমা ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে।
জ্বালানি বাঁচাতে জনগণকে গণপরিবহণ ব্যবহারের আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতে, দিল্লিতে প্রতি সপ্তাহে একদিন 'মেট্রো ডে' এবং 'নো-কার ডে' পালন করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। দিল্লি সরকার আগামী ছয় মাস নতুন কোনও যানবাহন কিনবে না বলেও ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২৯টি সরকারি কলোনিতে ৫৮টি বিশেষ বাস চালু করা হবে। গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লি সরকার।
উল্লেখ্য, জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বিদেশযাত্রা ও বিয়ের পরিকল্পনাও আপাতত কাটছাঁট করার আর্জি জানিয়েছেন মোদি। একইসঙ্গে ভোজ্য তেলের ব্যবহার হ্রাস করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ১ বছর সোনা কিনতেও নিষেধ করেছেন তিনি। মোদি বলেন, “দেশপ্রেম মানে শুধু সীমান্তে জীবন উৎসর্গ করা নয়। দেশপ্রেম মানে দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করা এবং দৈনন্দিন জীবনে দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করা।”
