৭ দিন ধরে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' (Digital Arrest) করে এক প্রবীণ দম্পতির ৩০ লক্ষ টাকা হাতাল অপরাধীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে দিল্লির (Delhi) দ্বারকায়। ৭৪ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে জালিয়াতরা ভয় দেখায়, দিল্লি বিস্ফোরণে যুক্ত অপরাধীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে ওই দম্পতির অ্যাকাউন্ট থেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনা গত বছরের ২৩ নভেম্বরের। এর ঠিক কয়েকদিন আগে ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। বিকেল ৪ টে নাগাদ বৃদ্ধের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের এনআইএ ও এটিএস আধিকারিক বলে দাবি করে। বলা হয়, দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণে অভিযুক্ত জঙ্গিদের টাকার জোগান দিতে তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর টানা ৭ দিন ধরে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের উপর নজরদারি চালানো হয়। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে নানান ভুয়ো নথি দেখিয়ে আরবিআই অনুমোদিত একটি ব্যাঙ্কে টাকা পাঠাতে বলা হয়।
মে মাসে আরটিজিএসের সূত্র ধরে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মেলে। তদন্তে নেমে জানা যায়, হরিয়ানার 'শ্রী বালাজি ট্র্যাক্টর' নামে একটি সংস্থার এই অ্যাকাউন্ট। যার মালিক সুনীল সিংলা।
জানা যাচ্ছে, ৩ ডিসেম্বর ওই বৃদ্ধ নিজের যাবতীয় সঞ্চয় ভেঙে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠান। প্রতারকদের তরফে জানানো হয়, তদন্ত শেষে এই টাকা তাঁদের ফেরত দেওয়া হবে। টাকা পাঠানোর পর শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নরের সিল করা একটি ভুয়ো 'ভেরিফিকেশন লেটার' পাঠানো হয়। এরপর থেকে প্রতারকদের তরফে ফোনের সুইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই দম্পতি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
ঘটনার প্রায় ৬ মাস পর মে মাসে আরটিজিএসের সূত্র ধরে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মেলে। তদন্তে নেমে জানা যায়, হরিয়ানার 'শ্রী বালাজি ট্র্যাক্টর' নামে একটি সংস্থার এই অ্যাকাউন্ট। যার মালিক সুনীল সিংলা। দেখা যায় ওই একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ৬টির বেশি সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা হাতানো হয়েছে। সিংলা আগেও একবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। তাঁর দাবি, এক ব্যক্তি তাঁর অ্যাকাউন্টে বড় লেনদেন করানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বিনিময়ে তাঁকে কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
