প্রায় মাস ছয়েক ধরে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে গুঞ্জন। তাঁর তরফে লবি করছেন বিধায়করা। তিনি নিজেও যে একেবারে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করেননি তা নয়। কিন্তু কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব এ পর্যন্ত রা কাড়েনি। তাতেই কি হতাশ ডিকে? অন্তত শনিবার রাতে তিনি যা বললেন, তাতে তাঁকে বেশ অভিমানী মনে হল।
শোনা যাচ্ছে, পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে ডিকের অনুগামীরা আরও একদফা তাঁকে কুরসিতে বসানোর জন্য চেষ্টা শুরু করবেন। সেজন্য দিল্লিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ। সেসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শনিবার রাতে শিবকুমার সাফ বলে দিলেন, "আমাকে আর এসবে জড়াবেন না। বিধায়করা দিল্লি যাবেন নাকি বিদেশে, সেটা তাদের ব্যাপার। কেউ যদি মন্ত্রী, চেয়ারম্যান হতে চান, বা ক্ষমতা চান, নিজেদের কথা নিজেরা বলেন। আমাকে দয়া করে এসবে আর জড়াবেন না। এটা আমার অনুরোধ।"
উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগে বিপুল জনাদেশ নিয়ে কর্নাটকে ক্ষমতায় ফিরেছিল কংগ্রেস। তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে আড়াআড়ি ভাগ হয় দুই শিবির। একদিকে প্রবীণ নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। কিন্তু সকলেই একবাক্যে মেনে নেন, ক্ষমতায় ফিরে আসার পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয় সিদ্দারামাইয়াকে। শোনা যায়, সেই সময় ঠিক হয়েছিল দুই নেতা আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। সেই আড়াই বছর পূর্ণ হয়েছে বর্তমান কর্নাটক সরকারের। এদিকে সিদ্দারামাইয়া ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি সরতে রাজি নন। যা নিয়ে বেঁধেছে কোন্দল। সম্প্রতি হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে দুই নেতা শান্ত হন এবং একে অপরের বাড়ি প্রাতঃরাশ খেয়ে বার্তা দেন দলে সব ঠিকই রয়েছে। কিন্তু দলের তরফে দীর্ঘদিনের বঞ্চনায় সম্ভবত এবার অভিমানী ডিকে।
দলের আজ নিষ্ঠাভরে করলেও তিনি উদাসীনতা দেখাচ্ছেন প্রকাশ্যেই। অনুগামীদের বলে দিচ্ছেন, আর মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে তিনি নেই। তাহলে কি তিনি অভিমানী? ডিকে অবশ্য প্রকাশ্যে বলছেন, "কর্নাটকে কংগ্রেসের সব বিধায়ক একত্রিত। ১৩৯ জনই দলের পক্ষে।" কিন্তু তাঁর কথায় অভিমান ঝলকে পড়ছে। যা কংগ্রেসের জন্য ভালো সংবাদ নয়। কারণ দক্ষিণে দলের যাবতীয় সাফল্যের কারিগর তিনিই। তিনি যদি অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, কংগ্রেসকে চাপে পড়তে হবেই।
